আরামকোতে হামলার দাবি হুতিদের, সৌদির তেল স্থাপনায় ফের আঘাতের হুঁশিয়ারি

Table of content

Table of content

রিয়াদ বিমানবন্দর ও তেল শোধনাগারেও হামলার দাবি; পাল্টা আঘাতে ইয়েমেনে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সংবাদ সারাদিন

সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। একই সঙ্গে সৌদি রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দর ও একটি তেল শোধনাগার লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার ধাহরানে আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার দাবি করে হুতিরা। এর আগে সৌদি কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনাকেন্দ্রের একটি ভবনে হামলার কথা জানান।

আরামকোর ভবনে হামলা, ক্ষয়ক্ষতি যাচাই হয়নি

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, তাঁদের বাহিনী ধাহরানে আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে নির্ভুল হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি রিয়াদ বিমানবন্দর ও রাজধানীর একটি তেল শোধনাগারেও হামলার কথা জানান তিনি। আগামী দিনগুলোতে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় অভিযান অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারিও দেন।

সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ধাহরানে আরামকোর একটি ভবনে হামলায় সীমিত অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। তবে এতে কেউ হতাহত হননি বলে দাবি করা হয়। এএফপির প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির দুই কর্মীর বরাতে ভবনের একটি টাওয়ারে আঘাত হানার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ঘটনাস্থলে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় ভবনটির ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি এএফপি।

রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, হুতিরা রিয়াদ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লে তা প্রতিহত করা হয়। এ সময় রাজধানীতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সাম্প্রতিক হামলাগুলো শহরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এর আগে শনিবার রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৫ সালের পর সৌদি আরবে এটিকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

ইয়েমেনে পাল্টা হামলা, জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা

হুতিদের হামলার জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে। জোটের দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল এমন স্থাপনা, যেগুলো সৌদি আরব, ইয়েমেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক নৌপথের জন্য হুমকি তৈরি করতে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

এদিকে, হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন সানায় জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় পেট্রল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে বলে এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সংঘাতের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, পরিবহন এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও চাপ বাড়ছে।

আঞ্চলিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তায় নতুন উদ্বেগ

২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের সরকারকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতে দেশটিতে গুরুতর মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক হামলা সৌদি আরবের ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা এবং লোহিত সাগরের নৌপথে নিরাপত্তাঝুঁকি আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সৌদি আরবের বিকল্প রপ্তানি পথের ওপরও সংঘাতের প্রভাব পড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

তবে আরামকো, রিয়াদ বিমানবন্দর ও তেল শোধনাগারে হামলার বিষয়ে হুতিদের দাবির সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করছে হামলার মাত্রা, সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়া এবং সংঘাত প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *