যেকোনো মূল্যে দেশের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষায় বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ১৭  সেপ্টেম্বর ২০২৬  

পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, দেশের প্রতিটি সাধারণ নাগরিকের সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার রক্ষায় সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জোরালো মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানী ঢাকার একটি স্বনামধন্য হোটেলে আইন মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘মানব পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক জাতীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির আসন থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। আইনমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বৈশ্বিক এই অপরাধ দমনে রাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান এবং বিচার বিভাগীয় সংস্কারের বিভিন্ন দিক অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেন।

মানব পাচারকে মানবসভ্যতার অন্যতম জঘন্য, অমানবিক এবং নিষ্ঠুরতম অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে আইনমন্ত্রী বলেন যে, একশ্রেণির আন্তর্জাতিক চক্র, অপরাধী ও মাফিয়া সিন্ডিকেট নিরীহ মানুষের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়ে অবৈধ উপায়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে, যা কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না। এই অবক্ষয় রোধে সরকার আইনগত কাঠামোতে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে উল্লেখ করে তিনি জানান যে, হালনাগাদ করা ২০২৬ সালের মানব পাচার আইনে অপরাধের সংজ্ঞাটিকে আরও বেশি বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী করা হয়েছে, যাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহ আরও বিস্তৃত পরিসরে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে। এছাড়া শতবর্ষের বেশি পুরোনো ১৮৮৭ সালের জুয়া আইন সংশোধন করে এর পরিধি বাড়ানো হয়েছে, যার মাধ্যমে বর্তমান সময়ের ডিজিটাল অপরাধ, অনলাইন জুয়া এবং মানব পাচারের মতো জঘন্য কার্যক্রমগুলোকে কঠোর আইনি কাঠামোর আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও অকপটে স্বীকার করেন আইনমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ মাত্রায় সতর্ক থেকে কাজ করলেও অনেক ক্ষেত্রে জনবলের ঘাটতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত বা অভিযোগকারী ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও জোরালো প্রমাণের অনুপস্থিতি তদন্ত কাজকে ব্যাহত করে। তবে অতীতের তুলনায় বর্তমানে দেশে মানব পাচারের হার অনেকটাই কমে এসেছে দাবি করে তিনি বলেন যে, বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের সংকট থাকায় জীবিকার সন্ধানে সাধারণ মানুষের বিদেশযাত্রা পুরোপুরি বন্ধ করা বাস্তবসম্মত নয়; বরং ট্যুরিস্ট ভিসায় বিদেশে গিয়ে অনেকেই যে অবৈধ অভিবাসীতে পরিণত হন, সেই সংকট উত্তরণে এবং প্রবাসী কর্মীদের আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সম্মিলিত সহযোগিতা অপরিহার্য। সভায় সভাপতিত্ব করেন আইন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রতিনিধি ক্রিস্টিয়ান হোলগে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *