সংবাদ সারাদিন ডেস্ক | ২৬ অক্টোবর ২০২৬
ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আপাতত হামলা না করার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে ভবিষ্যতে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি তিনি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) হোয়াইট হাউস থেকে মিশিগানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, ওই দিন ইরানে কোনো মার্কিন হামলা হবে না।
সাংবাদিকেরা জানতে চান, রোববারই ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হতে পারে কি না। জবাবে ট্রাম্প প্রথমে বলেন, এমন পরিকল্পনা থাকলেও তিনি কি তা সাংবাদিকদের জানাবেন? এরপর স্পষ্ট করে বলেন, সেদিন কোনো হামলা হবে না।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। বরং তেহরানের সঙ্গে সমঝোতা এবং নতুন করে সামরিক অভিযান—উভয় বিকল্পই বিবেচনায় রাখছে ওয়াশিংটন।
এর আগে ট্রাম্প জানান, ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক অভিযান চালানো হবে, নাকি আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো হবে, সে বিষয়ে তিনি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভুল হিসাবের অভিযোগ ইরানের
এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, নিজেদের ভুল হিসাব-নিকাশের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইরান সংঘাত নিয়ে জটিল পরিস্থিতিতে পড়েছে।
তার দাবি, বর্তমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ওয়াশিংটনকেই নিতে হবে।
ইরানকে সামরিক হুমকি দিয়ে নতি স্বীকার করানো সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
অন্যদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি লুকাস (LUCAS) ধরনের ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানি সেনাবাহিনী।
রোববার দেশটির আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম এ তথ্য জানায়। ইরানের দাবি অনুযায়ী, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়। তবে এই দাবির স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন বার্তা তেহরানের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে মৌলিক পরিবর্তন এনেছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এবং জলপথটির ব্যবস্থাপনা আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিজেদের উদ্যোগে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থাকে স্বাগত জানাবে তেহরান।
১৫০ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানিতে সহায়তার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
অন্যদিকে রোববার হরমুজ প্রণালি পরিদর্শন করেছেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, গ্রীষ্মকাল থেকে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোকে ১৫০ কোটি ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল রপ্তানিতে সহায়তা করেছে তারা।
সেন্টকম আরও জানিয়েছে, গত ছয় মাসে তাদের সহায়তায় তিন হাজারের বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক জলপথের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের অবস্থান এখনো বিপরীতমুখী।
কূটনৈতিক সমাধান নাকি নতুন সংঘাত?
ইরানকে ঘিরে নতুন সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কার মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তেহরান জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সাময়িকভাবে হামলা না করার ঘোষণা উত্তেজনা প্রশমনের একটি ইঙ্গিত হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ভবিষ্যৎ এখন অনেকাংশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।


