সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৬
সংক্ষিপ্তসার:
দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থীর নাম আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসার কথা। দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপির জ্যেষ্ঠ ও স্থায়ী কমিটির নেতাদের বৈঠকের পর প্রার্থীর নাম ঘোষণা এবং নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। দলীয় একাধিক সূত্রে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে উঠে এসেছে।
বিস্তারিত সংবাদ:
ঢাকা: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী কে হচ্ছেন—এ নিয়ে চলমান রাজনৈতিক আলোচনা ও জল্পনার অবসান হতে যাচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বৈঠকের সময় ও স্থান নিয়ে কিছু পার্থক্য থাকলেও, সবগুলো নির্ভরযোগ্য সূত্রই জানিয়েছে যে ১৩ আগস্ট দুপুরে তারেক রহমানের সঙ্গে দলের নীতিনির্ধারক নেতাদের বৈঠকের পরই রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নিয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হবে। এরপর বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেবে।
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। The Daily Star-এর প্রতিবেদনে দলীয় সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের সম্মতি পাওয়ার পর মির্জা ফখরুলকেই দলটির চূড়ান্ত পছন্দ হিসেবে ধরে প্রস্তুতি এগিয়েছে। তবে দলীয় আনুষ্ঠানিক ঘোষণাই বিষয়টিকে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করবে।
এর আগে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করেছিল। ফলে আজকের বৈঠককে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ শেষ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ১৬ আগস্ট। একাধিক বৈধ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হচ্ছেন সংসদ সদস্যরা।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় বিরোধী জোট ইতোমধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে তাদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। ফলে উভয় পক্ষের প্রার্থী বৈধ থাকলে এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাভুটির সম্ভাবনা রয়েছে।
গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়। এরপর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য পরে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির দীর্ঘদিনের মহাসচিব। তিনি ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নেন এবং ২০১৬ সাল থেকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তাঁর বর্তমান দলীয় ও সরকারি দায়িত্বে পরিবর্তন আসবে।
এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের নজর বিএনপির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে। দলীয় সূত্রগুলো মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দিকেই ইঙ্গিত দিলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগ পর্যন্ত সংবাদে তাঁকে ‘সম্ভাব্য প্রার্থী’ বা ‘দলীয় সূত্রে চূড়ান্ত পছন্দ’ হিসেবে উল্লেখ করাই তথ্যগতভাবে সবচেয়ে নিরাপদ।
সংবাদ সারাদিন ডেস্ক


