নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে গুলশান থেকে সাবেক এমপি আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৬ আগস্ট ২০২৬

রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে গাজীপুর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ—ডিবি। নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অফিসিয়াল সংবাদমাধ্যম ডিএমপি নিউজে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার ৫ আগস্ট রাত আনুমানিক ১০টার দিকে রাজধানীর গুলশান এলাকার একটি বাসায় অভিযান পরিচালনা করে ৭৩ বছর বয়সী আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ডিবির একটি দল।

ডিবি সূত্রের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

তবে ডিএমপির প্রাথমিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কোন হত্যা মামলা বা অন্য কোন মামলায় আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, মামলাগুলো কোন থানায় দায়ের করা হয়েছে কিংবা সেগুলোর নম্বর কী—এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন’ বলতে কোন সংগঠনকে বোঝানো হয়েছে, সেটিও বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়নি। প্রথম আলোর প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—তা তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি পুলিশ।

গ্রেপ্তারের পর আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। তাকে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে হাজির করে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করবে কি না, সে বিষয়ে প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।

আখতারুজ্জামান গাজীপুর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মেহের আফরোজ চুমকিকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে ১৯৯৬ সালে তিনি তৎকালীন গাজীপুর-৩ আসন থেকেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

রাজনীতির পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতিতেও পরিচিত ছিলেন আখতারুজ্জামান। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৯৭৯ ও ১৯৮০ সালে পরপর দুইবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের—ডাকসু—সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ১৯৮১ সালে ডাকসুর সহসভাপতি বা ভিপি নির্বাচিত হন।

তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তার পরিবার, আইনজীবী কিংবা রাজনৈতিক সহযোগীদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশের পক্ষ থেকে মামলার বিস্তারিত তথ্য, আদালতে হাজির করার সময় এবং পরবর্তী আইনি সিদ্ধান্ত জানানো হলে এ বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *