কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার জোরালো আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬  

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান এবং ১৩ বছর বয়সী কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিশ্চিত করার কঠোর আশ্বাস প্রদান করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সমসাময়িক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বহুল আলোচিত রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার যেভাবে দ্রুত সম্পন্ন করা হয়েছে, ঠিক একইভাবে অপ্রতিম হত্যার বিচারকার্যও অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে শেষ করা সম্ভব হবে। যদিও বিচারিক রায় আদালতের এখতিয়ারভুক্ত, তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সকল প্রকার আইনি সহযোগিতা ও সহায়তা প্রদান করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান যে, এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটনের পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে নিহত অপ্রতিমের সেই নিখোঁজ আইফোনটি ইতিমধ্যে সন্দেহভাজন প্রধান আসামি তুহিনের কাছ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সফলভাবে উদ্ধার করেছে। উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগে মায়ের আইফোনটি নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়ে আর বাড়ি ফিরে আসেনি কিশোর অপ্রতিম। এর একদিন পর দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিক দক্ষিণে লালমাই পাহাড়ের গভীর অংশ থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এই পৈশাচিক ঘটনার পরপরই পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত অভিযান চালিয়ে তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামের তিন তরুণকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করতে সক্ষম হয়, যাদের বিরুদ্ধে বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে আজ রোববার সকাল সোয়া ১১টায় কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকায় হাজারো মানুষের চোখের জলে দাফন সম্পন্ন হয় নিহত অপ্রতিমের। এর আগে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে শোকের আবহ তৈরি হওয়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নিহতের স্বজনদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ গভীর শোক ও ক্ষোভের সঙ্গে অংশ নেন। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে যাওয়া শিক্ষক মা নাহিদা বেগমসহ পুরো পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় বইছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার এই আশ্বাসের ফলে মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম এখন আরও গতিশীল হবে বলে প্রত্যাশা করছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *