সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইরানকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দেওয়া এবং দেশটির জব্দকৃত তহবিল অবমুক্ত করার কোনো ধরনের প্রস্তাব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ ও ‘সিএনএন’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, তেহরানের পরমাণু কর্মসূচিতে সুনির্দিষ্ট অগ্রগতির বিনিময়ে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাই দিতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে এই খবর প্রকাশের পরপরই তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের ভেরিফায়েড প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, ‘অ্যাক্সিওস একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যে ট্রাম্প ইরানকে নিষেধাজ্ঞা ও জব্দকৃত অর্থ ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। এটি সম্পূর্ণ অসত্য। আমি তাদের কিছুই প্রস্তাব করিনি!’ সংবাদমাধ্যমটির ওই প্রতিবেদন অবিলম্বে প্রত্যাহার করারও দাবি জানিয়েছেন তিনি। এর আগে গত সপ্তাহে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার প্রস্তাবও ‘অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, চলমান সংঘাতে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ ক্রমশ বাড়লেও ওয়াশিংটন তার মূল লক্ষ্য—অর্থাৎ তেহরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না দেওয়ার বিষয়ে সম্পূর্ণ অবিচল রয়েছে।
এদিকে দীর্ঘ সাত মাস ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত নিরসনে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা পর্দার আড়ালে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতা স্থাপনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাম্প সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে চলতি সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে আরও কিছু আলোচনা হতে পারে, তবে পূর্বের আলোচনায় ইরানি কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দাবি বা ‘বাড়াবাড়ি’ করেছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। মার্কিন বিশেষ দূত ও উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক দল এই সংকট সমাধানে কাজ করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সম্পর্কের বরফ গলা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি।


