সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
একটি জার্সি, একটি ঐতিহাসিক ম্যাচ এবং এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা দীর্ঘ দুই দশকের বর্ণাঢ্য ফুটবল ইতিহাস সবমিলিয়ে আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতে মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসিকে ঘিরে এক অভূতপূর্ব ও আবেগঘন বিদায়ী আয়োজন সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। আগামী ৬ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসের বিখ্যাত মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রীতি ম্যাচটিতে বিশেষ স্মারক হিসেবে একটি ভিন্নধর্মী ও নজরকাড়া জার্সি পরে মাঠে নামবেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের এই পরম ক্ষণটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং ভক্ত-সমর্থকদের মনে চিরস্মরণীয় করে রাখতেই এই অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যার প্রথম ঝলক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে তুমুল আলোড়ন ও আবেগ সৃষ্টি করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পুরোনো জার্সির সারি থেকে বিদায়ী নতুন জার্সিটি সযত্নে তুলে নেওয়ার একটি ছোট্ট ভিডিও শেয়ার করে লিওনেল মেসি অত্যন্ত আবেগঘন ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘শেষ ম্যাচ। আজীবনের জন্য একটি জার্সি।’ এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে বিখ্যাত ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস এই বিশেষ স্মারক জার্সির নান্দনিক নকশার বিস্তারিত প্রকাশ করে। আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার চিরচেনা আকাশি ও সাদা রঙের ঐতিহ্য বজায় রেখেই এই বিদায়ী জার্সিতে যুক্ত করা হয়েছে রাজকীয় সোনালি রঙের আবহ, যার ফলে কলার ও দুই হাতের হাতা জুড়ে রয়েছে চমৎকার সোনালি কারুকাজ এবং জার্সির পেছনে সোনালি রঙের উজ্জ্বল অক্ষরে খোদাই করা হয়েছে মেসির নাম ও তাঁর অমর ১০ নম্বর জার্সিটি। এই জার্সির সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও বিশেষ দিক হলো এতে স্থান পেয়েছে আর্জেন্টিনার জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম প্রধান প্রতীক ‘সান অব মে’ বা মে মাসের সূর্য, যা মেসির নাম ও ১০ নম্বর সংখ্যাটিকে ঘিরে একটি চমৎকার সূর্যের রশ্মির আদলে নকশা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই পোশাকটিকে কেবল একটি সাধারণ ম্যাচ জার্সি হিসেবে নয়, বরং মেসির দীর্ঘ ও গৌরবময় আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের একটি জীবন্ত স্মারক হিসেবেই নিখুঁতভাবে সাজানো হয়েছে।
জাতীয় দলকে চিরবিদায় জানানোর সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণার পরপরই আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এবং দেশটির ক্রীড়া মহল এই মহাতারকার বিদায়ী ম্যাচটিকে ঘিরে এক বিশেষ ও ঐতিহাসিক আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে, যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে বেনিন জাতীয় দলকে বেছে নেওয়া হয়। প্রিয় খেলোয়াড়কে জাতীয় দলের জার্সিতে শেষবারের মতো সামনাসামনি দেখার জন্য সমর্থকদের মাঝে কী পরিমাণ উন্মাদনা কাজ করছে, তার প্রমাণ মিলেছে টিকিট বিক্রির শুরুতেই; গত ২৪ সেপ্টেম্বর টিকিট বিক্রির কার্যক্রম চালুর মাত্র দুই ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে প্রায় ৮৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের সমস্ত টিকিট সম্পূর্ণ বিক্রেতা হয়ে যায়। ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক ঘটার পর থেকে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিয়ে কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা এবং বহুকাঙ্ক্ষিত ফিফা বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি দেশকে উপহার দিয়েছেন তিনি। আলবিসেলেস্তাদের জার্সিতে এ পর্যন্ত ২০৭টি অফিসিয়াল ম্যাচ খেলে ১২৫টি গোল করার অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছেন মেসি, আর আগামী ৬ অক্টোবর জীবনের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে সেই গোলসংখ্যাকে আরও একটু বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ তার সামনে থাকবে। তবে ম্যাচের ফলাফল বা গোল যাই হোক না কেন, বিশ্ব ফুটবলের বরপুত্রকে দেওয়া আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের এই বিদায়বেলা যে আর্জেন্টাইন ক্রীড়া ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।


