দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন: এ পর্যন্ত ১ কোটি ৮৫ লাখের বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬  

সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিরাপদ রাখতে দেশব্যাপী পরিচালিত বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের আওতায় এখন পর্যন্ত সফলভাবে ১ কোটি ৮৫ লাখ ৮৩৩ জন শিশুকে জীবনরক্ষাকারী টিকা প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, যেকোনো সংক্রামক মহামারি ও রোগবালাই মোকাবিলা করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সর্বদা সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি, তবে পূর্বের সরকারের আমলে নানা অনিয়ম ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে ২০২০ সালের পর থেকে নির্ধারিত সময়ে টিকাদান কর্মসূচি স্থগিত থাকায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল।

টিকা সংগ্রহের ক্ষেত্রে তৎকালীন সময়ে ইউনিসেফের নির্ধারিত ডেলিসগেটেড ও দ্রুত পদ্ধতি পরিহার করে উন্মুক্ত দরপত্র বা ওপেন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাওয়ার কারণে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বারবার অনুরোধ উপেক্ষা করায় দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ হয়েছিল বলে সমালোচনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এর ফলশ্রুতিতে টিকাদানে প্রায় চার বছরের যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান দায়িত্ব নেওয়ার পর তার চরম খেসারত দিতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ কণ্ঠে জানান যে, এর ফলে অনেক মায়েদের বুক খালি হয়েছে এবং হামে আক্রান্ত হয়ে প্রায় এক হাজার শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। একটি শিশুর মৃত্যুও অত্যন্ত বেদনাদায়ক উল্লেখ করে তিনি জানান যে, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরই গত ৫ এপ্রিল থেকে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করে এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই সারাদেশে এই কার্যক্রম চালিয়ে এ পর্যন্ত ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে টিকার সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। হামে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে পুষ্টিহীনতা ও নিউমোনিয়ার মতো মারাত্মক জটিলতা মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায় উল্লেখ করে তিনি জানান যে, আইসিডিডিআরবি-র গবেষকদের উদ্ভাবিত স্বল্পমূল্যের সিপ্যাপ (CPAP) পদ্ধতির মাধ্যমে অনেক মুমূর্ষু শিশুকে কৃত্রিম অক্সিজেন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছে।

ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান যে, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো কর্মসূচিতে ২ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে পাওয়া গেলেও হাম-রুবেলার ক্ষেত্রে প্রায় ৪০ লাখ শিশুর ব্যবধান থাকায় সরকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ইউনিসেফের সহায়তায় প্রাপ্ত নতুন ডোজ ও পূর্বের মজুত মিলিয়ে এবার ৩৪ লাখ শিশুকে লক্ষ্য করে আরও একটি জোরালো ‘ক্যাচআপ’ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে, যার মধ্যে নতুন জন্ম নেওয়া ১০ লাখ শিশু এবং ইতিপূর্বে বাদ পড়া ২৪ লাখ শিশু রয়েছে। কর্মজীবী মায়েরা যাতে কর্মব্যস্ততার কারণে কোনোভাবেই বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে এখন থেকে বন্ধের দিনগুলোতে এমনকি সন্ধ্যার পরেও টিকাদান কার্যক্রম চালু রাখার বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। আজ থেকে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের কেন্দ্র এবং প্রতিটি উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসন, সিভিল সার্জন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে এই টিকাদান ক্যাম্পেইন আরও জোরদার করা হয়েছে এবং এই জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি সফল করতে তিনি দেশের সকল গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিকের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *