‘আমার কারণে দল বিব্রত হোক, তা চাই না’—পদত্যাগের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা ইশরাকের

Table of content

Table of content

দৈনিক ইত্তেফাকের ১৯ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। সোমবার দুপুর ২টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন। নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় তিনি জানান, তাঁর কারণে যেন দল বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে, সে কারণেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

‘দলকে বিব্রত করতে চাই না’, পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ইশরাকের

জাতীয় ডেস্ক | সংবাদ সারাদিন | ১৯ অক্টোবর ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ২টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সামনে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। ইশরাক বলেন, তাঁর কারণে যেন দল বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে, সে কারণেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

দলীয় স্বার্থের কথা উল্লেখ করে সিদ্ধান্ত

পদত্যাগের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ইশরাক জানান, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়েই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দল তাঁর পদত্যাগ চায়নি; বরং দলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁকে এ সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। পদত্যাগের পেছনে থাকা বিশেষ কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি।

এর আগে সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ইশরাক।

মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্ক

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে। অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাঁকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

এ ঘটনায় আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছিল ঢাকা মহানগর পুলিশ। ডিবিপ্রধানের বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। তবে এ সংক্রান্ত তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল সম্পর্কে এখানে উল্লেখিত প্রতিবেদনগুলোতে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

‘মাদক নির্মূলে আরও সক্রিয় থাকব’

প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দিলেও মাদকের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসছেন না বলে জানিয়েছেন ইশরাক। তিনি বলেন, এখন সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে আরও বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করবেন।

পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি জোরদার করা এবং দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে বিভিন্ন জেলা সফরের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল—পদে না থাকলেও মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন।

পদত্যাগের নির্দেশ নিয়ে আগের বক্তব্যে ভিন্নতা

ইশরাকের পদত্যাগের ঘোষণার আগে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—এমন খবর কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তবে ১৮ অক্টোবর রাতে তাঁর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা এক বিবৃতিতে পদত্যাগ কিংবা পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবরকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছিলেন।

পরদিন ইশরাক নিজেই সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং এর কারণ হিসেবে দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে দূরে রাখার কথা বলেন। ফলে আগের নির্দেশসংক্রান্ত প্রতিবেদন ও তাঁর দপ্তরের অস্বীকৃতি—দুই বিষয়ই ঘটনাপ্রবাহের অংশ হিসেবে বিবেচ্য।

এখন কী গুরুত্বপূর্ণ?

ইশরাকের ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে এসেছে। তবে পদত্যাগপত্র জমা, গ্রহণ এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে পৃথক সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া গেলে তা সংবাদে যুক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে গেন্ডারিয়ার ঘটনায় আইনগত পর্যালোচনার ফলাফলও পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *