রং-তুলির শেষ আঁচড়ে পূর্ণতা পাচ্ছে প্রতিমা, নিরাপত্তায় জোর প্রশাসনের
জেলা সংবাদ | সংবাদ সারাদিন
শারদীয় দুর্গোৎসবের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। নড়াইলে এখন উৎসবের আমেজ, আর প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের কাজে দম ফেলার সময় নেই শিল্পীদের। কোথাও চলছে প্রতিমায় রং করার কাজ, কোথাও শেষ হচ্ছে অলংকার ও সাজসজ্জা। দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য প্রতিমাকে নান্দনিক রূপ দিতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন কারিগররা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, জেলার অধিকাংশ পূজামণ্ডপে সাজসজ্জার কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিমার শেষ রূপ দেখতে বিভিন্ন মণ্ডপে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
তিন উপজেলায় ৫৪৩ মণ্ডপে দুর্গাপূজা
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর নড়াইলের তিন উপজেলায় মোট ৫৪৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে নড়াইল সদর উপজেলায় ২৪৯টি, লোহাগড়ায় ১৫০টি এবং কালিয়ায় ১৪৪টি মণ্ডপ রয়েছে।
আগামী ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হবে। ১৮ অক্টোবর সপ্তমী, ১৯ অক্টোবর অষ্টমী, ২০ অক্টোবর নবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি হবে।
নিরাপত্তায় প্রশাসন, পুলিশ ও আনসার
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট পংকজ বিহারী ঘোষ অন্ন জানান, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আনসার-ভিডিপি সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
নড়াইলের পুলিশ সুপার মো. আল মামুন শিকদার জানান, পূজার আগে, চলাকালে ও পরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি ও যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রমও চলবে।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম জানান, প্রতিটি মণ্ডপের জন্য ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা অপতৎপরতার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকেরাও কাজ করবেন।
নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম জানান, দুর্গোৎসব সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে বিএনপির পক্ষ থেকে একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে প্রতিমার শেষ সাজসজ্জা থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি—সব ক্ষেত্রেই ব্যস্ত সময় পার করছে নড়াইল। এখন অপেক্ষা মহাষষ্ঠীর; এরপরই পূজার আয়োজন ও উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে উঠবে জেলার ৫৪৩টি মণ্ডপ।


