সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের পর এবার ইউরোপীয় শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি এয়ারবাসের কাছ থেকেও ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী অক্টোবর মাসেই এই বহুল প্রতীক্ষিত ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিমানমন্ত্রী জানান, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিখ্যাত বোয়িং কোম্পানি থেকেও আরও ১১টি নতুন উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যার ফলে বোয়িংয়ের সঙ্গে মোট চুক্তির সংখ্যা দাঁড়াল ২৫টিতে। এত বিপুলসংখ্যক উড়োজাহাজ বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কেন কেনা হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন যে, চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার অর্থ এই নয় যে বিমানগুলো এখনই বহরে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী কেনা প্রথম উড়োজাহাজটি হাতে পেতে ২০৩১ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে এবং এই ২৫টি বিমান পুরোপুরি বহরে যুক্ত হতে দীর্ঘ ১১ থেকে ১২ বছর সময় লাগবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই মুহূর্তে এর জন্য সরকারকে কোনো আগাম অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে না; বরং একেকটি বিমান ডেলিভারি পাওয়ার পরেই কেবল নিয়ম অনুযায়ী মূল্য পরিশোধ করা হবে।
আগামী ২৫ থেকে ৩০ বছর পরের ভবিষ্যৎ এভিয়েশন খাতের চাহিদা ও কৌশলগত অবস্থান বিবেচনা করেই সরকার এই সুদূরপ্রসারী চুক্তিগুলো করছে বলে জানান বিমানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, দেশের আকাশপথের বাণিজ্যিক ও যাত্রী পরিবহন খাতকে শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি। উদাহরণ দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের চেয়ে অনেক কম জিডিপি নিয়েও ইথিওপিয়ার জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থায় বর্তমানে ১৬৭টি বিমানের বিশাল ফ্লিট রয়েছে এবং তাদের জাতীয় অর্থনীতিতে এভিয়েশন খাত বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে। অথচ সেই তুলনায় বাংলাদেশ এভিয়েশন খাতে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। কার স্বার্থে বা কার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হলো কি না, তা দেখার বিষয় সরকারের নয়; বরং দেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক প্রয়োজন এবং কোন উড়োজাহাজটি বাংলাদেশের এভিয়েশনের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী ও লাভজনক, সেটাই সরকারের কাছে প্রধান বিবেচ্য বিষয় বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।


