যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পাশে ইলন মাস্ক, ব্যয় করেছেন ৩৬৬ মিলিয়ন ডলার

Table of content

Table of content

জুলাই থেকে ব্যয় ২৭৬ মিলিয়ন ডলার; এর মধ্যে রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থীদের সমর্থনকারী সুপার পিএসিতে ১৫৮ মিলিয়ন ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টিকে সহায়তা করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। গত বছর থেকে চলতি নির্বাচনী চক্রে তাঁর রাজনৈতিক ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এর মধ্যে চলতি বছরের জুলাই থেকে ব্যয় হয়েছে ২৭৬ মিলিয়ন ডলার। মাস্কের রাজনৈতিক তহবিলসংশ্লিষ্ট কমিটি America PAC-এর একজন মুখপাত্র এই ব্যয়ের পরিমাণ নিশ্চিত করেছেন।

১২ অক্টোবর প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অর্থের বড় অংশ ব্যয় করা হয়েছে রিপাবলিকানদের কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার প্রচেষ্টায়। বিশেষ করে সিনেট নির্বাচনে দলটির প্রার্থীদের সহায়তা করতে বড় অঙ্কের অর্থ দিয়েছেন মাস্ক। এতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রচারে ধনকুবেরদের আর্থিক প্রভাব এবং রাজনৈতিক অনুদানের ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

জুলাই থেকে ২৭৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয়

নির্বাচনী অর্থায়নের হিসাব অনুযায়ী, জুলাইয়ের পর থেকে মাস্কের দেওয়া অর্থের উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন রিপাবলিকানপন্থী রাজনৈতিক সংগঠনের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে।

মোট নির্বাচনী ব্যয়

$366 million

জুলাই থেকে ব্যয়

$276 million

সিনেট-সমর্থক সুপার পিএসি

$158 million

সময়সীমা

৩ নভেম্বর

২০২৬ সালের নির্বাচন

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ের পর দেওয়া অর্থের মধ্যে ১৫৮ মিলিয়ন ডলার গেছে সিনেট লিডারশিপ ফান্ডে, যা রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থীদের সমর্থনকারী একটি সুপার পিএসি। এ ছাড়া ২০ মিলিয়ন ডলার কংগ্রেশনাল লিডারশিপ ফান্ডে, ৭৬ মিলিয়ন ডলার মাস্কের নিজস্ব America PAC-এ এবং ১০ মিলিয়ন ডলার টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে কেন প্যাক্সটনকে সমর্থনকারী Lone Star Liberty PAC-এ দেওয়া হয়েছে।

একই সময়ে রিপাবলিকান গভর্নরস অ্যাসোসিয়েশনকে ১০ মিলিয়ন ডলার এবং রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেলস অ্যাসোসিয়েশনকে ২ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার তথ্যও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

রাজনৈতিক ব্যয় নিয়ে আগের অবস্থান থেকে সরে এলেন মাস্ক

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে মাস্ক বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তিনি যথেষ্ট অর্থ ব্যয় করেছেন এবং ভবিষ্যতে বড় পরিসরে রাজনৈতিক ব্যয়ের পরিকল্পনা নেই। কিন্তু সাম্প্রতিক অর্থায়নের পরিসংখ্যান তাঁর সেই অবস্থানের সঙ্গে একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তুলে ধরেছে।

মাস্কের রাজনৈতিক কমিটি America PAC-এর মুখপাত্র অ্যান্ড্রু রোমিও বলেছেন, এই বিনিয়োগ রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারের বার্তা ভোটারদের কাছে পৌঁছে দিতে সহায়তা করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব অর্থায়ন রিপাবলিকানদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ জোরদার করেছে।

মাস্ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। গত বছর তিনি হোয়াইট হাউসে বিশেষ উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রযুক্তি খাতের ব্যবসা ও বিপুল সম্পদের পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর অংশগ্রহণও দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক আলোচনার বিষয়।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে লড়ছে রিপাবলিকানরা

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন ভোটাররা। বর্তমানে উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে প্রচার চালাচ্ছে রিপাবলিকান পার্টি।

তবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থনীতি নিয়ে অসন্তোষ এবং প্রেসিডেন্টের জনসমর্থন নিয়ে উদ্বেগ নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ডেমোক্র্যাটরা এসব অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।

রিপাবলিকানদের সমর্থক আরেকটি সংগঠন MAGA Inc. আগস্টে নিজেদের তহবিলে ৪১৬ মিলিয়ন ডলার থাকার কথা জানিয়েছিল। টেক্সাসের একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিনেট নির্বাচনে সংগঠনটি এক মাসে ২২ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে বলেও TBS-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিপুল অনুদান নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা

নির্বাচনী প্রচারে বিপুল অর্থ ব্যয়ের ফলে ধনী ব্যক্তিদের রাজনৈতিক প্রভাব কতটা বাড়ছে, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, বড় অঙ্কের অনুদান রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সম্পদশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলোকে সাধারণ ভোটারদের তুলনায় অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দিতে পারে।

ডেমোক্র্যাটদের সিনেট মেজরিটি পিএসির মুখপাত্র লরেন ফ্রেঞ্চ অভিযোগ করেছেন, রিপাবলিকানরা বিপুল অর্থ ঢেলে নিজেদের প্রার্থী ও প্রেসিডেন্টকে ঘিরে জনঅসন্তোষের প্রভাব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। এটি ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক অবস্থান; নির্বাচনে অর্থ ব্যয়ের প্রকৃত প্রভাব ভোটের ফলাফল ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে মূল্যায়ন করতে হবে।

নির্বাচনে অর্থের প্রভাব কতটা পড়বে?

ইলন মাস্কের বিপুল অর্থায়ন ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের প্রচার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। তবে এই অর্থায়ন দলটির নির্বাচনী সাফল্য নিশ্চিত করবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ভোটারদের অর্থনৈতিক অভিজ্ঞতা, প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা, স্থানীয় ইস্যু এবং ভোটদানের হারও নির্বাচনের ফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।

নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অনুদানের এই পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রচারব্যবস্থায় ব্যক্তিগত সম্পদের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ককে আরও সামনে এনেছে। শেষ পর্যন্ত বিপুল অর্থায়ন ভোটারদের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলবে, তার উত্তর মিলবে নির্বাচনী ফলাফল ও পরবর্তী বিশ্লেষণে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *