পশ্চিমা মিত্রদের সীমিত সামরিক সহায়তায় হতাশ সৌদি আরব, হুথি হামলায় বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা

Table of content

Table of content

ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনের সঙ্গে আঞ্চলিক সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যে পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহায়তা না পাওয়ায় হতাশা বাড়ছে সৌদি আরবের। রিয়াদের একাধিক প্রতিরক্ষা সহায়তার অনুরোধ এখনো অনুমোদন পায়নি। এ পরিস্থিতিতে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি।

সামরিক সহায়তা চেয়েও সবুজ সংকেত পায়নি রিয়াদ

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পশ্চিমা মিত্রদের কাছে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছে। তবে এসব অনুরোধের কয়েকটি এখনো অনুমোদিত হয়নি বলে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্য সৌদি আরবকে একটি আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান দিয়েছে। তবে রিয়াদের প্রত্যাশিত সহায়তার তুলনায় এই পদক্ষেপ সীমিত বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হামলা চালানোর অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সৌদি আরবের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রতিশ্রুতি পূরণের বিষয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা আলোচনা

পশ্চিমা সহায়তা সীমিত থাকায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা নিউইয়র্কে বৈঠক করেছেন। হুথি হামলা মোকাবিলায় মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর করার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

তবে সৌদি আরবের পক্ষে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ না করতে তুরস্ক ও পাকিস্তানকে সতর্ক করেছেন হুথি আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি। ফলে সম্ভাব্য আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সৌদি ভূখণ্ডে হামলা, হতাহতের খবর

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি ভূখণ্ডকে লক্ষ্য করে একটি হুথি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদের দিকে নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ ছাড়া তায়েফে একটি প্রতিহত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন।

একই সময়ে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার না করতে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর প্রতিও সতর্কবার্তা দিয়েছে হুথি আন্দোলন। এসব ঘটনার কারণে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক বিমান চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

জ্বালানি খাতেও চাপ

মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব সৌদি আরবের জ্বালানি খাতেও পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটির অপরিশোধিত তেল উৎপাদন ১৯৯০ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে TBS জানিয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে সৌদি আরবের উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং তেলের বাজারে প্রভাব পড়তে পারে। তবে এর প্রকৃত মাত্রা নির্ভর করবে সংঘাতের স্থায়িত্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো কত দ্রুত স্বাভাবিক হয় তার ওপর।

আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন সমীকরণ

পশ্চিমা মিত্রদের সীমিত সহায়তা সৌদি আরবকে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা সেই প্রচেষ্টার অংশ। তবে যৌথ প্রতিরক্ষা উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, সামরিক সমন্বয় এবং সংঘাতের পরবর্তী গতিপথের ওপর।

বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল এবং জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কূটনৈতিক উদ্যোগ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা উত্তেজনা কমাতে কতটা ভূমিকা রাখতে পারে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *