নেতানিয়াহুর নির্বাচনী ভাগ্য বদলে দেওয়ার দাবি ট্রাম্পের

Table of content

Table of content

জাতীয় ডেস্ক | সংবাদ সারাদিন

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে দেশটির নির্বাচনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে দেওয়ার দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন ঘোষণার পর পরিস্থিতি পাল্টেছে। সম্ভাব্য বড় পরাজয়ের আশঙ্কা থেকে এখন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই কিংবা জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি করেন ট্রাম্প। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। এ বিষয়ে দ্য জেরুজালেম পোস্টের বরাতে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সময় নিউজ।

ট্রাম্পের দাবি, তাঁর সমর্থন নেতানিয়াহুকে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাঁকে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তবে ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তাঁর মতে, নেতানিয়াহু প্রত্যাশার চেয়ে ভালো করেছেন; তবে শেষ পর্যন্ত ফলাফল অমীমাংসিত থাকতে পারে, আবার নেতানিয়াহু জয়ীও হতে পারেন।

সরকার গঠনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে অনিশ্চয়তা

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠন করতে প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। নির্বাচনী বুথফেরত জরিপের তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট এবং তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরের মধ্যে স্পষ্ট ব্যবধান দেখা যায়নি।

এ অবস্থায় কোনো পক্ষই সহজে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সরকার গঠনের সমীকরণে ছোট দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নেতানিয়াহুর দল লিকুদ সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হলেও, এককভাবে সবচেয়ে বড় দল হওয়া আর সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা এক বিষয় নয়। ফলে চূড়ান্ত ফলাফল এবং সম্ভাব্য জোট গঠনের আলোচনা নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন

গত ১৮ অক্টোবর ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানান ট্রাম্প। তাঁকে সাহসী নেতা হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার জন্যও তাঁর প্রশংসা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের এই সমর্থনকে এখন নিজের রাজনৈতিক প্রভাবের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে নির্বাচনে নেতানিয়াহুর অবস্থান উন্নত হওয়ার পেছনে ট্রাম্পের সমর্থন কতটা ভূমিকা রেখেছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, ট্রাম্পের দাবি এবং নির্বাচনী ফলাফলের প্রকৃত চিত্রকে পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি। শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের সক্ষমতা নির্ভর করবে আসনসংখ্যা, জোটের সমীকরণ এবং সংশ্লিষ্ট দলগুলোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *