জাতীয় ডেস্ক | সংবাদ সারাদিন
পিরোজপুরের শ্রীরামকাঠী-ভরতকাঠী ফেরিঘাট এলাকায় কালিগঙ্গা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় শিশু অর্পিতা ব্যাপারীর (৮) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তার মা রিনা ব্যাপারী (৩৫) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারে আবারও অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, দুর্গাপূজার ছুটিতে মেয়ে অর্পিতাকে নিয়ে স্বামী সংকর ব্যাপারীর সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন রিনা। সোমবার রাতে শ্রীরামকাঠী এলাকায় পূজা দেখে ট্রলারে করে বাড়ি ফিরছিলেন তাঁরা।
নাজিরপুর প্রান্ত থেকে অর্ধশতাধিক যাত্রী ও ছয়টি মোটরসাইকেল নিয়ে ট্রলারটি ভরতকাঠী ফেরিঘাটের উদ্দেশে রওনা হয়। ঘাট ছাড়ার পরপরই ট্রলারটি ভারসাম্য হারিয়ে কালিগঙ্গা নদীতে ডুবে যায়। এ সময় অধিকাংশ যাত্রী সাঁতরে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে রিনা ও তাঁর মেয়ে নিখোঁজ হন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দুই দফা অভিযান চালিয়ে রাতেই অর্পিতার মরদেহ উদ্ধার করে। তবে রিনা ব্যাপারীর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজিয়া শাহনাজ তমা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিব এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন জাহান। উদ্ধারকাজ পরিচালনায় পিরোজপুর জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক রায়হানুর আশরাফ এবং নাজিরপুর ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক সোয়াইব হোসেন মুন্সি নেতৃত্ব দেন।
ইউএনও ও ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক জানান, রাতের বেলা উদ্ধার অভিযান চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তা স্থগিত রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার সকালে নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারে পুনরায় অভিযান চালানোর কথা রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ট্রলারে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী ও মোটরসাইকেল থাকায় ভারসাম্য হারানোর বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল জানা জরুরি।


