সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি মাটি নরম হয়ে পড়ায় বিভিন্ন ক্যাম্পে ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েছে।
টানা ভারী বর্ষণের ফলে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে একাধিক স্থানে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটার পর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢালে বসবাসকারী এক হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে প্রশাসন ও মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি মাটি নরম হয়ে পড়ায় বিভিন্ন ক্যাম্পে ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েছে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হচ্ছে। মাইকিং, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং কমিউনিটি নেতাদের মাধ্যমে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে যেতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।
উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ভূমিধসে শিশু ও নারীসহ একাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। আহতদের নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন কক্সবাজার অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে নতুন করে ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে পাহাড়ের ঢাল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ঘনবসতিপূর্ণ পাহাড়ি ঢালে নির্মিত অস্থায়ী আশ্রয়গুলো প্রতি বর্ষা মৌসুমেই বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ে। তারা দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ আবাসন, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
মূল বিষয়সমূহ
- কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে ভারী বর্ষণে ভূমিধসের ঘটনা।
- ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে এক হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
- উদ্ধার কার্যক্রমে প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও মানবিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত অংশগ্রহণ।
- আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি।
- পাহাড়ি ঢালে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে যেতে অনুরোধ।
নিরাপত্তা নির্দেশনা
- ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢালে অবস্থান না করার আহ্বান।
- প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়া।
- ভারী বর্ষণের সময় পাহাড়ি পথ ও ঢালের কাছাকাছি চলাচল এড়িয়ে চলা।
- জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা।
সম্পাদকের নোট: উদ্ধার কার্যক্রম ও আবহাওয়া পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হতাহত ও স্থানান্তরিত মানুষের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। নতুন সরকারি বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য পাওয়া গেলে এই প্রতিবেদন হালনাগাদ করা হবে।


