সংবাদ সারাদিন | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর আবারও যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি কর্মসূচির নিবন্ধন চালুর উদ্যোগ সামনে এসেছে। দেশটির ২০২৭ অর্থবছরের ডিভি লটারির আবেদনপ্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে আদালতের নির্দেশের পর নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে। তবে বাংলাদেশিরা এবার আবেদন করতে পারবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
মার্কিন অভিবাসনবিষয়ক আইন প্রতিষ্ঠান ফ্র্যাগোমেনের ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত ডিভি-২০২৭ কর্মসূচির নিবন্ধন চালুর বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন। সংশোধিত সময়সীমা অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনসংক্রান্ত ঘোষণা এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণের পোর্টাল চালু করার কথা রয়েছে। নিবন্ধন অন্তত ৩০ দিন চালু রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারি ঘোষণা বা পরবর্তী আদালতের সিদ্ধান্তে সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে।
আদালতের নির্দেশে নিবন্ধন চালুর উদ্যোগ
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২০২৫ সালের নভেম্বরে জানিয়েছিল, ডিভি-২০২৭ কর্মসূচির নিবন্ধনপ্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সে সময় নিবন্ধন শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। পরে দীর্ঘদিন আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
আইন প্রতিষ্ঠান ফ্র্যাগোমেনের তথ্য অনুযায়ী, ‘রেড ঈগল ল বনাম রুবিও’ মামলায় ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর ডিভি-২০২৭ নিবন্ধন চালুর বিষয়ে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ দেন। পরবর্তী সংশোধিত সময়সীমায় ২৯ অক্টোবরের মধ্যে বিস্তারিত ঘোষণা এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন চালুর কথা বলা হয়েছে।
তবে আদালতের নির্দেশের অর্থ এই নয় যে আবেদনপ্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। আবেদন শুরুর চূড়ান্ত সময়সূচি, যোগ্যতার শর্ত এবং নিবন্ধনের নিয়ম জানতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।
বাংলাদেশিরা কি এবার আবেদন করতে পারবেন?
ডিভি লটারি নিয়ে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এটিই। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশিরা এবার আবেদন করতে পারবেন—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি কর্মসূচিতে কোন দেশের নাগরিক বা কোন দেশে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরা আবেদন করতে পারবেন, তা প্রতিবছর প্রকাশিত নির্দেশনায় নির্ধারণ করা হয়। ডিভি-২০২৬ কর্মসূচির অযোগ্য দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ছিল। ডিভি-২০২৭-এর জন্য প্রকাশিত চূড়ান্ত যোগ্য দেশের তালিকা ও নির্দেশনা যাচাই না করে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত বলা যাবে না।
অতএব, লটারি চালুর উদ্যোগ এবং বাংলাদেশিদের আবেদন করার যোগ্যতা—দুটি পৃথক বিষয়। নতুন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক নির্দেশনায় বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার পরই এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
কেন ডিভি লটারি থেকে বাদ বাংলাদেশ?
যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি মূলত এমন দেশগুলোর মানুষের জন্য, যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কমসংখ্যক মানুষ স্থায়ীভাবে অভিবাসন করেন।
মার্কিন অভিবাসন আইনের আওতায়, আগের পাঁচ বছরে কোনো দেশ থেকে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হলে সাধারণত সেই দেশকে ডিভি কর্মসূচির অযোগ্য তালিকায় রাখা হয়। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মসূচির অযোগ্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে।
তবে প্রতিবছরের যোগ্যতার তালিকা নতুন করে নির্ধারণ করা হয়। তাই আগের বছরের তালিকা দেখে পরবর্তী বছরের যোগ্যতা নিশ্চিত করা যায় না। ডিভি-২০২৭-এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আবেদন করতে পারবে কি না, তা জানতে নতুন নির্দেশনাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ডিভি লটারিতে নির্বাচিত হলেই কি গ্রিন কার্ড পাওয়া যায়?
না। ডিভি লটারিতে নির্বাচিত হওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হওয়া নয়।
নির্বাচিত ব্যক্তিকে পরবর্তী ধাপে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা, শিক্ষাগত যোগ্যতা অথবা নির্ধারিত কর্ম-অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ এবং অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনি শর্ত ও ভিসার প্রাপ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচিতে প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ভিসার বিধান রয়েছে; তবে কর্মসূচির নির্দিষ্ট বছরের নিয়ম অনুযায়ী প্রকৃত বরাদ্দ কম হতে পারে। লটারিতে নির্বাচিত হওয়া কেবল পরবর্তী ধাপে আবেদন করার সুযোগ তৈরি করে, ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়।
আবেদনকারীদের জন্য সতর্কতা
ডিভি লটারি চালুর খবর সামনে আসার পর প্রতারণামূলক ওয়েবসাইট, ভুয়া আবেদনসেবা এবং অর্থের বিনিময়ে নির্বাচিত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থেকে সতর্ক থাকা জরুরি।
আবেদনপ্রক্রিয়া চালু হলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। নিবন্ধনের সময়, যোগ্যতা ও ফি-সংক্রান্ত নিয়ম চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দাবিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।
সরকারি তথ্য ও নিবন্ধনের নির্দেশনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি কর্মসূচির ওয়েবসাইট অনুসরণ করা যেতে পারে:
শেষ কথা
ডিভি-২০২৭ কর্মসূচির নিবন্ধন চালুর বিষয়ে আদালতের নির্দেশ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে বাংলাদেশিরা আবেদন করতে পারবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। নতুন যোগ্য দেশের তালিকা, আবেদন শুরুর তারিখ এবং নিবন্ধনের নিয়ম প্রকাশের পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।


