আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে মধ্যরাতে পাকিস্তানি বিমান হামলার অভিযোগ: দুই দেশের সীমান্ত উত্তেজনা চরমে

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬  

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোতে আবারও পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের পক্ষ থেকে বিমান হামলা চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত ও ভোরে কুনার ও পাকতিকা প্রদেশে চালানো পৃথক এই বিমান হামলায় অন্তত তিনজন নিরীহ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। সীমান্তে তৎপর সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি এবং তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল নিয়ে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে চলমান দীর্ঘদিনের বিরোধ ও আস্থার সংকটের মধ্যেই সংঘটিত এই নতুন হামলা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও বেশি উত্তপ্ত ও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

আফগান বার্তাসংস্থা খ্যামা প্রেস ও তালেবান কর্মকর্তাদের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, সোমবার রাত আড়াইটার দিকে কুনার প্রদেশের নুরগাল জেলার পাটান গ্রামের একটি আবাসিক বাড়িকে লক্ষ্য করে প্রথম দফায় বিমান হামলা চালানো হয়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তিনজন বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারান এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ভোর ৪টার দিকে পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলার তোর কান্দি এবং রাখায় এলাকার কিছু স্থাপনায় দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়, যদিও সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রাণঘাতী আক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাদের সামরিক অভিযান জোরদার করেছে। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের জোরালো অভিযোগ রয়েছে যে, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি নামক নিষিদ্ধ গোষ্ঠীটি আফগান ভূখণ্ডের ভেতরে নিজস্ব নিরাপদ আশ্রয়স্থল ব্যবহার করে পাকিস্তানে নিয়মিত সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

অন্যদিকে, আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসন শুরু থেকেই এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়ে আসছে যে, আফগান মাটি ব্যবহার করে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার কোনো সুযোগ কাউকে দেওয়া হয় না। এর আগে খাইবার পাখতুনখাওয়ার হাঙ্গু জেলায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষে দুই সেনা কর্মকর্তাসহ ছয়জন পাকিস্তানি সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনার ঠিক একদিন পরেই এই বিমান হামলার ঘটনাটি ঘটল। পাকিস্তান সরকার বরাবরই নিজেদের ভূখণ্ডে ঘটে চলা সন্ত্রাসী হামলার জবাবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আত্মরক্ষার স্বার্থে সীমান্তপারের এসব লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকারের কথা বলে আসছে। তবে তালেবান সরকার এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপকে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং অভিযোগ করেছে যে, তথাকথিত সশস্ত্র আস্তানার বদলে বিমান হামলায় বারবার সাধারণ ও নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সব মিলিয়ে সীমান্তে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং সর্বশেষ মধ্যরাতের এই বিমান হামলার ফলে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত অঞ্চলের ভঙ্গুর নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও বেশি অবনতির দিকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *