কারাগারে ইয়াবা পাচারের নতুন কৌশল, পেটের ভেতর ক্যাপসুল নিয়ে ঢোকার চেষ্টা

Table of content

Table of content

জাতীয় ডেস্ক | সংবাদ সারাদিন

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পেটের ভেতরে ইয়াবাভর্তি ক্যাপসুল বহন করে প্রবেশের চেষ্টা করছেন বন্দিরা। গত কয়েক মাসে এভাবে মাদক পাচারের চেষ্টার অভিযোগে অন্তত ৩০ জনকে শনাক্ত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ একজনের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার পিস পর্যন্ত বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

কারাগারের ভেতরে মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ তল্লাশি জোরদার করেছে। একই সঙ্গে পেটের ভেতরে থাকা ক্যাপসুল ফেটে প্রাণহানির আশঙ্কায় বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

তিন স্তরের তল্লাশি জোরদার

কারাগারের প্রবেশপথে বন্দিদের শরীর একাধিক ধাপে পরীক্ষা করা হচ্ছে। আদালত থেকে কারাগারে আসা বন্দিদের প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তল্লাশি করা হয়। মুখের ভেতর থেকে শুরু করে শরীরের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ্ শরীফ জানান, কিছু বন্দি ইয়াবা গিলে পেটের ভেতরে বহন করে কারাগারে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন অংশে মাদক লুকিয়ে আনার ঘটনাও রয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রচলিত হাতে-কলমে তল্লাশির মাধ্যমে পেটের ভেতরে থাকা মাদক শনাক্ত করা কঠিন। তা সত্ত্বেও গত কয়েক মাসে অন্তত ৩০ জনের কাছ থেকে কয়েক হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে।

ক্যাপসুল ফেটে মৃত্যুর ঝুঁকি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কালো টেপে মোড়ানো প্রতিটি ক্যাপসুলে প্রায় ৫০ পিস ইয়াবা থাকে। একজন বন্দি এক থেকে সর্বোচ্চ ১৫টি পর্যন্ত ক্যাপসুল পেটের ভেতরে বহন করার চেষ্টা করতে পারেন।

তবে এসব ক্যাপসুল পাকস্থলী বা অন্ত্রে ফেটে গেলে মারাত্মক বিষক্রিয়া ও প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে সন্দেহভাজন বন্দিদের বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে কারা কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন জানান, পেটের ভেতরে থাকা ইয়াবা শনাক্ত করা কঠিন হলেও প্রবেশপথসহ তিন স্তরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যাপসুল ফেটে গেলে সংশ্লিষ্ট বন্দির জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি বন্দি

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২০০ জন হলেও বর্তমানে সেখানে প্রায় ৭ হাজার ৭০০ বন্দি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার আসামি।

কারা কর্মকর্তাদের মতে, বিপুলসংখ্যক বন্দি এবং কারাগারের ভেতরে মাদক প্রবেশের চেষ্টা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে তুলছে। এ অবস্থায় মাদক মামলার আসামিদের জন্য পৃথক কারাগার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কারা অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি মো. ছগির মিয়া জানান, চট্টগ্রাম অঞ্চলে দ্রুত একটি পৃথক নারকোটিক কারাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সাধারণ বন্দিদের থেকে মাদকাসক্ত ও মাদক মামলার বন্দিদের আলাদা রাখা গেলে তাঁদের পুনর্বাসন কার্যক্রম সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সন্দেহভাজন বন্দিদের আলাদা রাখা হচ্ছে

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো বন্দির পেটের ভেতরে ইয়াবা থাকার সন্দেহ হলে তাঁকে অন্তত দুই দিন আলাদা করে রাখা হয়। বড় চালান উদ্ধারের ঘটনায় থানায় মামলা করা হচ্ছে। আর ছোট চালানের ক্ষেত্রে কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কারাগারের নিরাপত্তা জোরদার, মাদক পাচার প্রতিরোধ এবং বন্দিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়গুলো এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *