জাতীয় ডেস্ক | সংবাদ সারাদিন
অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের কাছে বন্দুকধারীদের হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর ফিলিস্তিনিদের একটি এলাকায় সামরিক অভিযান জোরদার এবং বাড়িঘর ধ্বংসের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। শুক্রবারের (২৩ অক্টোবর) এ ঘটনার পর ওই এলাকায় ভবন ভাঙার কাজও শুরু হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হেবরনের কাছে একটি সামরিক তল্লাশিচৌকিতে হামলায় দুই সেনা নিহত হন এবং আরও তিনজন আহত হন। সেনাদের পাল্টা গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি হামলাকারীও নিহত হন। ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটেছে, যখন ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক উত্তেজনা গুরুত্ব পাচ্ছে।
অভিযান ও বাড়িঘর ধ্বংস
হামলার পর নেতানিয়াহু হেবরনের সংশ্লিষ্ট এলাকায় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো এবং অস্ত্র ও কথিত সশস্ত্র অবকাঠামো ধ্বংসের ঘোষণা দেন। তিনি পশ্চিম তীরজুড়ে আরও কঠোর সামরিক অভিযানের কথাও বলেন।
রয়টার্সের একজন প্রতিবেদক ঘটনাস্থলের কাছে ইসরায়েলি বুলডোজার দিয়ে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ভাঙতে দেখেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ধ্বংসের মুখে পড়া বাড়িগুলোর সঙ্গে হামলাকারীদের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ অভিযানকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ হামলা ঠেকানোর পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও মানবাধিকারকর্মীরা বাসিন্দাদের জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়া এবং আবাসিক ভবন ধ্বংসের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
পশ্চিম তীরে বাড়ছে উত্তেজনা
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার পর থেকে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংঘাতের প্রভাব পশ্চিম তীরেও বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এবং ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হেবরনের এ ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে। তবে অভিযানের পরিধি, কতজন বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং পশ্চিম তীরজুড়ে ঘোষিত বিধিনিষেধ কতটা কার্যকর করা হবে—এসব বিষয়ে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।


