মাইকেল ওলিসের জাদুকরী গোলে ফ্রান্সের রোমাঞ্চকর জয়

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬  

মাঠের সবুজ গালিচায় কোনো ফুটবলার যখন জাদুকরী কিছু করে দেখান, তখন তার রেশ শুধু খেলোয়াড়দের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে না; গ্যালারিতে থাকা দর্শক কিংবা ডাগআউটের কোচও হারিয়ে যান সেই ঘোরলাগা আনন্দে। ব্রাসেলসের কিং বাউডোইন স্টেডিয়ামে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে উয়েফা নেশনস লিগের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ঠিক এমনটিই ঘটল। নির্ধারিত সময় প্রায় শেষ এবং ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই বদলি হিসেবে মাঠে নামা তরুণ ফরাসি মিডফিল্ডার মাইকেল ওলিসে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে উপহার দিলেন এক অবিশ্বাস্য গোল। আর তাঁর সেই চোখ জুড়ানো মুভ দেখে নিজের আবেগ আর ধরে রাখতে পারেননি ফ্রান্সের কোচ জিনেদিন জিদানও। ডাগআউটে দাঁড়িয়ে খেলোয়াড়সুলভ বুনো উল্লাসে মেতে ওঠেন ফুটবলের এই কিংবদন্তি, যা প্রমাণ করে দিল—ফুটবল খেলাটা আসলেই দারুণ এক সংক্রামক অনুভূতি!

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল একে অপরকে সমান তালে টক্কর দিচ্ছিল। কিলিয়ান এমবাপ্পে চোটের কারণে দলের বাইরে থাকায় ফরাসি একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছিলেন কোচ জিদান। ফলস্বরূপ প্রথমার্ধ তো বটেই, ম্যাচের সিংহভাগ সময়জুড়ে গোলের দেখা মিলছিল না। তবে খেলার বয়স যখন ৮৮ মিনিট, তখন নিজেদের রক্ষণভাগ থেকে বল পেয়ে চোখের পলকে প্রতিপক্ষের অর্ধের দিকে ছুটতে শুরু করেন বায়ার্ন মিউনিখের তরুণ সেনসেশন মাইকেল ওলিসে। বেলজিয়ামের ডিফেন্ডারদের রীতিমতো বোকা বানিয়ে এবং দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ে বক্সের ভেতর ঢুকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান তিনি। ওলিসের এই চোখধাঁধানো দৌড় ও গোল দেখে ডাগআউটে টাচলাইন ধরে খেলোয়াড়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌড় শুরু করেছিলেন কোচ জিদানও! গোল হওয়ার পরেও উত্তেজনার চোটে সামনে পড়ে থাকা একটি বলে হাসিমুখেই কিক করে বসেন ফরাসি গ্রেট।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের এই আবেগপ্রবণ মুহূর্তের চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়ে জিদান বলেন, “খেলার ছন্দে আমি যেন সম্পূর্ণ ভেসে গিয়েছিলাম, ওই মুহূর্তের একটা অংশ হতে চেয়েছিলাম। বুঝতে পেরেছিলাম ও দারুণ এক মুভ তৈরি করেছে, তাই আমিও মনে মনে ওর পেছন পেছন গেলাম। হঠাৎ দেখি সামনে বল, ভাবলাম ওটায় একটু লাথি মারা যাক!” ওলিসেকে ভূয়সী প্রশংসায় ভাসিয়ে তিনি আরও বলেন যে, ফরাসি এই মিডফিল্ডার হলেন নিখাদ এক প্রতিভা, যার রক্তে ফুটবল খেলাটার প্রতি সুগভীর প্যাশন ও সৃজনশীলতা রয়েছে। উল্লেখ্য, জিদানের কোচিং ক্যারিয়ারের শুরুটাও হয়েছে দারুণ সফলভাবে—ফ্রান্সের কোচ হিসেবে নিজের প্রথম দুই ম্যাচেই জয় তুলে নিলেন তিনি, যার নেপথ্যে বড় অবদান রয়েছে এই ওলিসেরই। সব মিলিয়ে ওলিসের এই জাদু এবং জিদানের প্রাণোচ্ছল উদ্‌যাপন ফরাসি ফুটবলে নতুন এক আশার আলো জ্বেলে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *