সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘পেরিম’ (ময়উন) দ্বীপের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নিজেদের সামরিক অবস্থান শক্তিশালী করার দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। আন্তর্জাতিক সংবাদের বরাতে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর দ্বীপটি থেকে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী পিছু হটলে হুতি যোদ্ধারা সেখানে প্রবেশ করে এই কৌশলগত ভূখণ্ডের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ হাতে নেয়। লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বারে হুতিদের এই শক্ত অবস্থান বিশ্ব বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক নৌচলাচল ব্যবস্থার জন্য নতুন করে চরম নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি করেছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম ইয়েমেন উপকূলে অবস্থিত প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাব আল-মান্দেব প্রণালিটি সুয়েজ খাল হয়ে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্য পরিচালনার অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক পথ। বিশ্বের মোট সমুদ্রবাহিত জ্বালানি তেলের একটি বিরাট অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। প্রণালির ঠিক কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত পেরিম দ্বীপটির অবস্থানগত গুরুত্ব অপরিসীম হওয়ায় এটি নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী পুরো নৌপথে জাহাজের চলাচলের ওপর নজরদারি চালাতে সক্ষম। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে অস্থিতিশীলতার পর বাব আল-মান্দেবের গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে এই ভূখণ্ড হস্তান্তরের ঘটনা বিশ্ব বাজার ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ইয়েমেনের স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, দ্বীপটির সরকারি নিরাপত্তা সদস্যরা অবস্থান ত্যাগ করার পর একাধিক সশস্ত্র নৌযানে চড়ে হুতি যোদ্ধারা দ্বীপে অবতরণ করে এবং উপকূলজুড়ে সাঁজোয়া সামরিক টহল জোরদার করে। গত সপ্তাহে শুরু হওয়া তীব্র সামরিক লড়াইয়ে সরকারি বাহিনীর সাথে হুতিদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং কয়েক হাজার পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছে। আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পেরিম দ্বীপে হুতিদের শক্ত ঘাঁটি স্থাপন বিশ্ব বাণিজ্য রক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বৃহৎ পরাশক্তিগুলোর জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


