সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনিয়ম, তারল্য সংকট ও দীর্ঘদিনের আস্থাহীনতার মুখে পড়া দেশের পাঁচটি দুর্বল শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ পুনর্গঠনের পর ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। কার্যক্রম চালুর পর আমানত তোলার জন্য বিশাল ভিড়ের আশঙ্কা করা হলেও বাস্তবে সিংহভাগ গ্রাহকই অর্থ উত্তোলন না করে নতুন করে টাকা আমানত রাখছেন। প্রতিদিন নির্ধারিত মোট বরাদ্দের অর্ধেকেরও কম অর্থ উত্তোলন হওয়ায় গ্রাহক আস্থার ফেরাকে ঘিরে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকসহ পুরো আর্থিক খাতে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরে এসেছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ ও এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে মোট ৩৫ হাজার কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনে গঠিত হয় নতুন এই ব্যাংক। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিশেষ ৫ হাজার কোটি টাকার তারল্য সুবিধা প্রদান এবং আমানতের ওপর থেকে ‘হেয়ারকাট’ বাতিল করার পর গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রাহকদের জন্য অর্থ উত্তোলনের পথ সুগম করা হয়। গত ১ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৭৭ জন আমানতকারী মোট ৫ হাজার ৫১১ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করলেও বাস্তবে মাত্র ৩৫ হাজার ৯০৭ জন গ্রাহক ১ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন, যা আবেদনের মাত্র এক-চতুর্থাংশ। বিপরীত চিত্রে, ৭ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর—এই চার দিনে ব্যাংকটিতে নতুন করে ৮৯৪ কোটি টাকার আমানত জমা পড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, একীভূতকরণের আগে ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক থাকায় আমানতকারীদের ফিরিয়ে আনাটাই ছিল মূল চ্যালেঞ্জ। তবে কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় আমানত উত্তোলনের চাপ আশঙ্কাজনক পর্যায়ে যায়নি। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবেদুর রহমান সিকদার উল্লেখ করেন যে, হেয়ারকাট প্রত্যাহার এবং ব্যাংকিং সেবা স্বাভাবিক হওয়ায় গ্রাহকরা নিজেদের অর্থ ব্যাংকটিতে গচ্ছিত রাখা নিরাপদ মনে করছেন। অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন ও সিএইচডিআর/সিপিডি সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদদের মতে, ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকার বিশাল খেলাপি ঋণের ধস সামলে ব্যাংকটি যেভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে তা ইতিবাচক লক্ষণ হলেও, দীর্ঘমেয়াদে শাখা ও জনবল পুনর্গঠন করে সুশাসন নিশ্চিত করাই হবে ব্যাংকিং খাতের স্থায়ী সাফল্যের প্রধান চাবিকাঠি।


