ব্রিকসকে শক্তিশালী অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক বানাতে ও নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্যের আহ্বান ইরানের

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২  সেপ্টেম্বর | আপডেট: ১২  সেপ্টেম্বর ২০২৬  

উন্নয়নশীল দেশগুলোর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক জোট ‘ব্রিকস’-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একটি স্বনির্ভর ও টেকসই বাণিজ্য নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি পারস্পরিক বাণিজ্যে নিজ নিজ দেশের নিজস্ব মুদ্রা ব্যবহারের জন্য জোর তাগিদ দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি স্পষ্ট মত ব্যক্ত করেছেন যে, বৈশ্বিক এই বাণিজ্য কৌশলের মাধ্যমে জোটভুক্ত দেশগুলোর অর্থায়নে পারস্পরিক সহযোগিতা অভূতপূর্ব মাত্রায় বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক চাপ ও রাজনৈতিক অস্থিরতাজনিত অর্থনৈতিক ক্ষতি বহুগুণে হ্রাস করা সম্ভব হবে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ ব্রিকস বিজনেস ফোরামে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রনেতাদের উপস্থিতিতে মূল ভাষণ প্রদানকালে এসব কৌশলগত প্রস্তাবনা তুলে ধরেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিশ্বের সার্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা তার ইতিহাসের সবচেয়ে জটিল ও সংকটাপন্ন সময় অতিক্রম করছে। বিশ্ব জুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন এবং অর্থনৈতিক শক্তিকে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা বেড়ে যাওয়াকেই এই সংকটের প্রধান উৎস বলে চিহ্নিত করেন তিনি। পেজেশকিয়ান যুক্তি দেন, কেবল অর্থনীতির বাহ্যিক আকার বা ভূখণ্ড ব্রিকসের প্রকৃত শক্তি হতে পারে না। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থায়নের একীভূত সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলে সম্ভাব্য রূপরেখাকে বাস্তবে কার্যকর সহযোগিতায় রূপান্তর করা এখন ব্রিকসের জন্য সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধের মুখে থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইরান ও ইসরাইল-আমেরিকার সাম্প্রতিক সংঘাত প্রমাণ করেছে যে জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার সাথে অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের অবকাঠামো বা অর্থব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার নেতিবাচক তরঙ্গ বিশ্ব অর্থনীতিকেও অস্থিতিশীল করে তোলে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্ব অর্থনীতির সার্বিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ব্রিকসের উচিত এমন একটি প্রতিরক্ষামূলক অবকাঠামো তৈরি করা যেন একক কোনো রাষ্ট্র প্রযুক্তি বা মুদ্রার একচেটিয়া প্রভাব খাটিয়ে স্বাধীন বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। সে লক্ষ্যে শুল্ক ও বাণিজ্য প্রক্রিয়ার ডিজিটাল রূপান্তর, সীমান্ত বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। মার্কিন ডলারনির্ভর একক মুদ্রা ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি জানান, নির্দিষ্ট গুটিকয়েক মুদ্রার ওপর চরম নির্ভরতা আন্তর্জাতিক বাজারকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। ফলে জাতীয় মুদ্রায় বাণিজ্য প্রসারের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি সৃষ্টিতে ব্রিকসকে শীর্ষ নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রসঙ্গত, ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়ে গঠিত ব্রিকসে সম্প্রতি ইরান, মিসর, ইথিওপিয়া, উত্তর আফ্রিকা ও এশিয়ার একাধিক দেশ যুক্ত হয়ে নতুন মাত্রা লাভ করেছে। চলতি ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়া দিল্লিতে সংস্থাটির ১৮তম বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *