অনিয়মে ৭ বছরেও চালু হয়নি ৮ বিভাগীয় ক্যান্সার হাসপাতাল, দুর্ভোগে লাখো রোগী

Table of content

Table of content

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২৬

অনিয়ম, সমন্বয়হীনতা ও দীর্ঘসূত্রতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত

দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে নির্মাণাধীন বিশেষায়িত ক্যান্সার, হৃদরোগ ও কিডনি হাসপাতাল সাত বছরেও চালু না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখো রোগী। অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, সমন্বয়হীনতা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার কারণে নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালগুলো চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে দেশের বিভিন্ন জেলার ক্যান্সার রোগীদের এখনো চিকিৎসার জন্য রাজধানীর মহাখালীর জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

প্রকল্পটি ২০১৯ সালে শুরু হলেও ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার লক্ষ্য পূরণ হয়নি। পরবর্তীতে একাধিকবার সময় ও ব্যয় বাড়ানো হলেও এখনো হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা চালু করা যায়নি। সর্বশেষ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বিভাগীয় হাসপাতালগুলো সময়মতো চালু হলে রোগীরা নিজ নিজ বিভাগেই ক্যান্সার শনাক্তকরণ, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি ও অস্ত্রোপচারের মতো বিশেষায়িত সেবা পেতেন। এতে রাজধানীর ওপর চাপ যেমন কমত, তেমনি রোগীদের চিকিৎসা শুরু করতেও দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হতো না।

জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালে বর্তমানে প্রতিদিন হাজারো রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। শয্যাসংকট, চিকিৎসক ও জনবল ঘাটতি, রেডিওথেরাপি যন্ত্রের সীমিত ব্যবহার এবং দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে অনেক রোগীর চিকিৎসা বিলম্বিত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগের জটিলতাও বেড়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে প্রকল্প বিলম্বের জন্য জমি নির্বাচন, নকশা পরিবর্তন, অর্থ ছাড়ে ধীরগতি, ঠিকাদারি দুর্বলতা, চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহে বিলম্ব এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যান্সারের মতো জটিল রোগে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিভাগীয় হাসপাতালগুলো দ্রুত চালু করে জনবল নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।


মূল বিষয়সমূহ

  • ৭ বছরেও চালু হয়নি ৮ বিভাগীয় ক্যান্সার, হৃদরোগ ও কিডনি হাসপাতাল।
  • অনিয়ম, সমন্বয়হীনতা ও দীর্ঘসূত্রতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত।
  • রাজধানীর জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালে রোগীর অতিরিক্ত চাপ।
  • শয্যা, চিকিৎসক ও রেডিওথেরাপি সেবার ঘাটতিতে বাড়ছে দুর্ভোগ।
  • প্রকল্পের মেয়াদ আবারও বাড়িয়ে ২০২৮ সাল পর্যন্ত নেওয়ার উদ্যোগ।

রোগীদের ভোগান্তি

  • 🏥 একটি শয্যার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা।
  • ⏳ কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপিতে মাসের পর মাস বিলম্ব।
  • 🚑 চিকিৎসার জন্য বারবার ঢাকায় আসতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা।
  • 💰 যাতায়াত, থাকা ও চিকিৎসা ব্যয়ে বাড়ছে আর্থিক চাপ।
  • ⚕️ বিলম্বিত চিকিৎসায় জটিল হচ্ছে অনেক রোগীর অবস্থা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *