সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মসজিদের সম্মানিত ইমামদের কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিশ্বজুড়ে ইসলামের শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার অগ্রদূত ও বৈশ্বিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন হিসেবে গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে চলতি মাসের শেষভাগে মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ড ইমাম কনফারেন্স (আইজিআইসি) ২০২৬ আয়োজন করতে যাচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি।
রাজধানী জাকার্তায় উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিস মাত্তার সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে ইন্দোনেশিয়ার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী নাসারুদ্দিন ওমর জানান, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ভ্রাতৃত্ব ও শান্তির বার্তা পৌঁছাতে ইমামরা অত্যন্ত প্রচ্ছন্ন ভূমিকা রাখতে পারেন। ইমামদের দায়িত্ব সমাজের বহুমুখী উন্নয়নে বিস্তৃত হওয়া উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্মীয় অনুশাসনের পাশাপাশি ইমামদের সমাজের নৈতিকতার অভিভাবক, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা বিস্তার এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করতে হবে। আধুনিক যুগে ইমামদের সুদৃঢ় জাতীয়তাবাদী চিন্তা, কার্যকর আন্তর্জাতিক যোগাযোগ দক্ষতা ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সমৃদ্ধ হওয়ার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।
সম্মেলনের সার্বিক প্রস্তুতি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়ে ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিস মাত্তা জানান, আয়োজকদের পক্ষ থেকে সৌদি আরব, ফিলিস্তিন এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ইমামদের আমন্ত্রণ জানানোর বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে। চলমান বৈশ্বিক বাস্তবতা ও নিপীড়নের চিত্র বিবেচনায় এনে এই সম্মেলনে ফিলিস্তিন ইস্যুকে অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত আলোচনার বিষয়বস্তু হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক এই গ্র্যান্ড ইমাম কনফারেন্সটি মোট দুই ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপের মূল আনুষ্ঠানিকতা আগামী ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানী জাকার্তায় এবং দ্বিতীয় ধাপ ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ সুমাত্রার ঐতিহাসিক পালেমবাং শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্মেলনকে সফল ও অর্থবহ করতে মাকাসার, সামারিন্দা, সুরাবায়া এবং বান্দুংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ইতোমধ্যে একাধিক প্রাক-সম্মেলন ও প্রস্তুতিমূলক সভা সম্পন্ন করা হয়েছে।


