সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইরানের সাথে সামরিক সংঘাতে নিহত ও আহত মার্কিন সেনাসদস্যদের প্রাপ্য সরকারি ভাতা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম বিতর্ক। সংঘাতটি মার্কিন কংগ্রেস কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ঘোষিত যুদ্ধ’ না হওয়ায় নিহত এক মেজরের বিধবা স্ত্রীকে শুরুতে প্রাপ্য সুবিধা পাওয়ার অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করে মার্কিন ডিফেন্স ডিপার্টমেন্ট (পেন্টাগন)।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর তোপের মুখে ভুল স্বীকার করেছে মার্কিন বিমানবাহিনী। তবে এ ঘটনায় সামনে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব পালনরত মার্কিন সেনাসদস্যদের সুযোগ-সুবিধা ও চিকিৎসা অবহেলার নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য।
প্রাপ্য অধিকার নিয়ে লড়ছেন নিহত সেনার পরিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে পশ্চিম ইরাকে কেসি-১৩৫ (KC-135) জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্তে প্রাণ হারান ৩৩ বছর বয়সী মার্কিন মেজর অ্যালেক্স ক্লিনার। নিহত এই কর্মকর্তার স্ত্রী লিবি ক্লিনার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (AP) জানান, তাঁর স্বামী যুদ্ধে মারা যাওয়া সত্ত্বেও তাঁকে বলা হয় কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা না করায় তিনি অতিরিক্ত সুবিধা বা ‘কমব্যাট পে’ পাওয়ার যোগ্য নন।
লিবি ক্লিনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন, “প্রিয়জন হারিয়ে যখন পরিবার দিশেহারা, তখন সরকারি জটিল প্রশাসনিক ভাষা বুঝে অধিকার আদায় করা অসম্ভব। কোনো গোল্ড স্টার (নিহত সেনার) পরিবারকে সুবিধা পেতে সরকারি ভাষার বিশেষজ্ঞ হতে হবে—এটা হওয়া উচিত নয়।”
পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হলে মার্কিন বিমানবাহিনী নিজেদের ভুল স্বীকার করে জানায়, তথ্যগত ভুলের কারণে মেজরের শেষ বেতনে কমব্যাট পে (মাসিক ২২৫ ডলার) ও কর ছাড়ের বিষয়টিতে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, যা সংশোধন করা হয়েছে।
‘যুদ্ধ’ নাকি ‘সামরিক সংঘাত’: মার্কিন সরকারের দ্বিমুখী অবস্থান গত ৬ মাসে ইরানের সাথে সংঘাতে অন্তত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৭৮০ জন আহত হলেও মার্কিন প্রশাসন এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে স্বীকার করতে নারাজ।
সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বিষয়টিকে ‘যুদ্ধ’ বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, “এই মুহূর্তে সেখানে কোনো সক্রিয় গোলাগুলি চলছে না।” অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টিকে ‘যুদ্ধ’ না বলে হালকা করে দেখানোর চেষ্টা করে বলেন, “অনেকে এটিকে যুদ্ধ বলে না, আমি একে ছোটখাটো সামরিক সংঘাত বলব।”
প্রশাসনের এমন অবস্থানের কারণে বহু সেনাপরিবার তাদের স্বজন হারানোর পর জটিল আইনি মারপ্যাঁচে আটকে পড়ছেন। এছাড়া পেন্টাগনের বিরুদ্ধে আহত সেনাদের আঘাতের মাত্রা গোপন করা এবং যথাযথ চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগী সেনাসদস্যরা।


