সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৬
জুলাই সনদ সামনে রেখে সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম বৈঠক ৪ আগস্ট
ঢাকা, ৩০ জুলাই ২০২৬ (সংবাদ সারাদিন): জুলাই জাতীয় সনদকে সামনে রেখে গঠিত জাতীয় সংসদের ‘সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’র প্রথম বৈঠক আগামী ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে বৈঠকটি হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশেষ কমিটির সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ জানিয়েছেন, আগামী ৪ আগস্ট কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে সদস্যদের জানানো হয়েছে। সরকারি দলের চিফ হুইপ ও কমিটির সদস্য নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, প্রথম বৈঠকে মূলত সদস্যদের পরিচিতি, কমিটির কার্যপরিধি এবং প্রাথমিক করণীয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিস্তারিত আলোচ্যসূচি প্রথম বৈঠকের পর চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হওয়ার দুই দিন আগে গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ২৬৬ বিধি অনুসারে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনের সুপারিশ তৈরি করে সংসদে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কমিটিকে।

প্রাথমিকভাবে ১৭ সদস্যের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সদস্যদের নাম না দেওয়ায় ১২ সদস্য নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়। বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি পদ শূন্য রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিরোধী দল নাম দিলে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি পুনর্গঠন করা যাবে বলে সরকারদলীয় চিফ হুইপ জানিয়েছেন।
কমিটিতে সালাহউদ্দিন আহমদ ছাড়াও রয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নাল আবেদীন, মীর হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমিন, শাকিলা ফারজানা, মাহমুদুল হক রুবেল, জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি, আন্দালিভ রহমান পার্থ, নুরুল হক এবং মো. ওলিউল্লাহ।
কমিটি গঠনের সময় থেকেই সংবিধান ‘সংস্কার’ ও ‘সংশোধন’—এই দুই ধারণা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। বিরোধী দলের দাবি, গণভোটে দেওয়া জনগণের রায় অনুসারে জুলাই জাতীয় সনদের সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে হবে। শুধু সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদীয় কমিটি গঠন করলে গণভোটের রায় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে না বলে তাদের অবস্থান।
এই অবস্থান থেকে সংসদে কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিরোধী দলের সদস্যরা অধিবেশনকক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন। জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কমিটিতে কোনো সদস্যের নাম দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে সরকারের বক্তব্য হলো, বিদ্যমান সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে। গণভোটের রায় ও জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্যও প্রথমে সংসদের মাধ্যমে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা দরকার। এ কারণে সংসদীয় বিশেষ কমিটিকেই আলোচনা ও সুপারিশ তৈরির উপযুক্ত জায়গা হিসেবে দেখছে সরকার।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিশেষ কমিটি বিচার বিভাগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, আইনজীবী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, সংবাদপত্রের সম্পাদক, রাজনৈতিক দল এবং অন্যান্য অংশীজনের মতামত নিতে পারবে। আলোচনার ভিত্তিতে কমিটি প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক পরিবর্তনের সুপারিশ তৈরি করে সংসদে প্রতিবেদন জমা দেবে। পরে ওই সুপারিশের আলোকে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপন করা হতে পারে।
রাজনৈতিক মতবিরোধের মধ্যে ৪ আগস্টের প্রথম বৈঠককে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকে কমিটির কার্যপদ্ধতি, আলোচনার বিষয়, বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ এবং পরবর্তী বৈঠকের সময়সূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে ৩০ জুলাই পর্যন্ত বৈঠকের সুনির্দিষ্ট সময় ও পূর্ণাঙ্গ আলোচ্যসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।


