একযোগে ৩ ভাইরাসের তাণ্ডব: ডেঙ্গু, হাম ও ইনফ্লুয়েঞ্জায় কাবু রোগীরা, চরম ঝুঁকিতে শিশু ও বয়স্করা

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ 

দেশে অস্বাভাবিক হারে ছড়িয়ে পড়ছে নানা ধরনের ভাইরাসজনিত জ্বর। এবার আর কোনো একটি নির্দিষ্ট ভাইরাসে সীমাবদ্ধ নেই রোগব্যাধি; বরং একই সাথে তাণ্ডব চালাচ্ছে তিনটি ভয়ংকর ভাইরাস ডেঙ্গু, হাম এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা। আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন ও ঋতুসন্ধিক্ষণের কারণে ঘরে ঘরে এই জটিল সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে অবুঝ শিশু এবং শারীরিক জটিলতায় ভোগা বয়স্ক মানুষজন।

রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, দিন দিন বাড়ছে জ্বর, কাশি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর ভিড়। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, শরীরজুড়ে লালচে র‌্যাশ ও তীব্র শ্বাসকষ্ট। অন্যদিকে, প্রবীণ ও বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের মতো পুরোনো ব্যাধি থাকার কারণে এই ভাইরাসগুলোর আক্রমণ জীবনঘাতী রূপ নিচ্ছে।

শিশু ও বয়স্কদের শরীরে ৩ ভাইরাসের লক্ষণ:

ডেঙ্গু: তীব্র জ্বর, হাড় ও চোখের পেছনে প্রচণ্ড ব্যথা, অনবরত বমি ও প্লাটিলেট কমে যাওয়া। বয়স্কদের ক্ষেত্রে দ্রুত রক্তচাপ কমে ‘ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম’ সৃষ্টি হচ্ছে, যা তাঁদের জীবন সংশয়ের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

হাম: শিশুদের ক্ষেত্রে জ্বরের পর শরীরজুড়ে লালচে গুটি বা র‌্যাশ উঠছে, যা থেকে পরবর্তীতে নিউমোনিয়ার মতো বিপজ্জনক সংক্রমণ তৈরি হচ্ছে।

ইনফ্লুয়েঞ্জা: হাঁচি-কাশি ও তীব্র শ্বাসকষ্ট। বয়স্কদের ফুসফুসে আগে থেকেই সমস্যা থাকলে ইনফ্লুয়েঞ্জার ফলে সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন বা নিউমোনিয়া দেখা দিচ্ছে।

ডেঙ্গুর আশঙ্কাজনক পরিসংখ্যান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, প্রতিদিনই শত শত নতুন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। এদের মধ্যে একটি বড় অংশই শিশু এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ নাগরিক। আক্রান্তের পাশাপাশি মৃতের সংখ্যাও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের জরুরি পরামর্শ চিকিৎসকরা বলছেন, এখন আর কোনো জ্বরকেই ‘সাধারণ ফ্লু’ মনে করে অবহেলা করার সুযোগ নেই।

১. শিশু বা বয়স্কদের জ্বর আসার সাথে সাথেই পর্যাপ্ত পানি, ডাবের পানি ও তরল খাবার খাওয়াতে হবে।

২. যেকোনো বয়সেই প্রচণ্ড পেটব্যথা, শরীর অস্বাভাবিক নিস্তেজ হয়ে পড়া, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে ঘরে বসে না থেকে অবিলম্বে হাসপাতালে নিতে হবে।

৩. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ফার্মেসি থেকে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক বা যথেচ্ছ ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *