সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২৬
রাজধানীর মিরপুরে মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সীমানাপ্রাচীর ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত আরও সাতজন রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ এবং দেয়াল নির্মাণে কোনো ধরনের অনিয়ম ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে যৌথ তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন—ডিএনসিসি।
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই দুপুর দেড়টার দিকে মিরপুর-২ এলাকায় মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পেছনের একটি সীমানাপ্রাচীর হঠাৎ ধসে পড়ে। এ সময় দেয়ালের পাশে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের—টিসিবি সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্য কিনতে বেশ কয়েকজন মানুষ সারিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। দেয়ালটি তাদের ওপর ধসে পড়লে কয়েকজন আটকা পড়েন। পরে স্থানীয় মানুষ, পুলিশ ও উদ্ধারকারীরা আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান।
দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে নাসিমা বেগম নামে মিরপুরের জনতা হাউজিং এলাকার এক নারী রয়েছেন। পরে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিউটি বেগম নামে আরও এক নারীর মৃত্যু হয়। অপর নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি জানান, রাজউক, গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএনসিসি প্রশাসকের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে দেয়ালটি ২০১৪ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে এতে প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়নি এবং আরসিসি কাঠামোর পরিবর্তে শুধু ইটের গাঁথুনি দিয়ে দেয়াল তৈরি করা হয়েছিল। নির্মাণের এই দুর্বলতা দুর্ঘটনার একটি কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কলেজের অবশিষ্ট সীমানাপ্রাচীরগুলোও পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে ডিএনসিসি। প্রয়োজন হলে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ দেয়ালগুলো ভেঙে নতুন করে শক্তিশালী ও নিরাপদভাবে নির্মাণ করা হবে।
এদিকে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তাদের হাসপাতালে বিনা মূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ঘটনার পর কলেজ এলাকা ও আশপাশে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্মাণে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।


