নিজস্ব প্রতিবেদক | অর্থনীতি | ১২ অক্টোবর ২০২৬
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার (NASA) ‘আর্টেমিস-২’ চন্দ্রাভিযানে অংশ নেওয়া নভোচারীদের পরা ট্রাউজার বাংলাদেশে তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করেছে দেশের একটি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। ঢাকার অদূরে আশুলিয়ায় অবস্থিত অনন্ত গার্মেন্টসের কর্মকর্তাদের দাবি, নভোচারীদের পরনে দেখা যাওয়া ‘স্ট্রাইক’ কার্গো প্যান্ট তাদের কারখানায় তৈরি হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। তবে নভোচারীদের পরা নির্দিষ্ট পোশাকটি বাংলাদেশে তৈরি কি না, তা সংশ্লিষ্ট মার্কিন ব্র্যান্ড ৫.১১ ইনকরপোরেটেড এখনো নিশ্চিত করেনি। ফলে বিষয়টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
যে পোশাক নিয়ে আলোচনা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভোচারীদের পরনে থাকা ট্রাউজারটি মার্কিন ব্র্যান্ড ‘৫.১১ ট্যাকটিক্যাল’-এর ‘স্ট্রাইক’ কার্গো প্যান্ট হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। অনন্ত গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা হংকংভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্র্যান্ডটির কাছে একই ধরনের পোশাক রপ্তানি করে।
অনন্ত কোম্পানিজ লিমিটেডের পরিচালক রিদওয়ান জহির খান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে দুটি চালানে প্রতিষ্ঠানটি ৫.১১ ব্র্যান্ডের জন্য পোশাক রপ্তানি করেছিল। নভোচারীদের পোশাকের সঙ্গে তাদের উৎপাদিত পণ্যের মিল পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে কারখানার কর্মীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়।
তবে ৫.১১ ইনকরপোরেটেডের কাছ থেকে এ বিষয়ে নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কয়েক বছরে তৈরি হয়েছে ৪ লাখের বেশি প্যান্ট
অনন্ত কোম্পানিজের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সাল থেকে ‘স্ট্রাইক’ প্যান্ট উৎপাদন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত এবং ২০২৩ সাল থেকে অনন্ত গার্মেন্টস এ মডেলের প্যান্টের প্রস্তুতকারক হিসেবে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ পর্যন্ত তারা মোট ৪ লাখ ৬০ হাজার ৬৮১টি প্যান্ট তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘৫.১১ ট্যাকটিক্যাল’-এর ওয়েবসাইটে এ ধরনের প্যান্টের খুচরা মূল্য ৯৫ মার্কিন ডলার উল্লেখ রয়েছে। তবে বাংলাদেশি কারখানাটি পণ্যটির রপ্তানিমূল্য প্রকাশ করেনি।
উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনে বাংলাদেশের সম্ভাবনা
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তৈরি পোশাক রপ্তানির জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিত। তবে দেশের পোশাকশিল্পে এখন সাধারণ পোশাকের পাশাপাশি কারিগরি বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন, উন্নত মানের এবং তুলনামূলক বেশি মূল্যসংযোজিত পণ্য উৎপাদনের ওপরও গুরুত্ব বাড়ছে।
শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন করতে পারলে বাংলাদেশের কারখানাগুলোর জন্য নতুন বাজার ও রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নভোচারীদের পরা নির্দিষ্ট পোশাকটি বাংলাদেশে তৈরি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে ব্র্যান্ডের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা আরও স্বাধীন প্রমাণ প্রয়োজন।


