বায়ুদূষণে বিশ্বের শহরগুলোর মধ্যে পঞ্চম অবস্থানে ঢাকা

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৬

বুধবার সকালে ঢাকার বাতাস ছিল সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর; শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ

বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরগুলোর তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। বুধবার, ২৯ জুলাই সকাল ৯টা ৫২ মিনিটে শহরটির বায়ুমান সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স—একিউআই ছিল প্রায় ১১১, যা ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত।

এই মাত্রার বায়ুদূষণে সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকলেও শিশু, প্রবীণ, গর্ভবতী নারী এবং হৃদ্‌রোগ ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। তাদের দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা ও অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

দূষণের তালিকায় শীর্ষে কিনশাসা

সকালের বৈশ্বিক তালিকায় কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা ১৬৮ একিউআই স্কোর নিয়ে সবচেয়ে দূষিত শহরের অবস্থানে ছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ১৫৪ এবং ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ১৫২ স্কোর নিয়ে পরবর্তী অবস্থানগুলোতে ছিল। একই সময়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় পঞ্চম স্থানে ছিল ঢাকা।

তবে বায়ুদূষণের এই তালিকা স্থায়ী কোনো বার্ষিক র‍্যাংকিং নয়। বিভিন্ন শহরের বাতাস, আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত, বাতাসের গতি এবং দূষণকারী উপাদানের মাত্রা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রতি ঘণ্টায় অবস্থানও বদলে যেতে পারে।

দুপুরে কিছুটা উন্নতি:

সকালের তুলনায় দুপুরে ঢাকার বাতাসের মানে কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে। আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ঢাকার একিউআই স্কোর ছিল ৮২, যা ‘মাঝারি’ বা গ্রহণযোগ্য পর্যায়ের মধ্যে পড়ে। ওই সময় ঢাকার বাতাসে প্রধান দূষক ছিল অতি সূক্ষ্ম বস্তুকণা পিএম২.৫।

দুপুর ১টার হিসাবে ঢাকার বাতাসে পিএম২.৫-এর ঘনত্ব ছিল প্রতি ঘনমিটারে ২৫ দশমিক ৭ মাইক্রোগ্রাম। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বার্ষিক পিএম২.৫ নির্দেশক মানের তুলনায় প্রায় ৫ দশমিক ১ গুণ বেশি।

ঢাকার বিভিন্ন এলাকার মধ্যেও বায়ুর মানে পার্থক্য দেখা গেছে। দুপুরের পর্যবেক্ষণে ধানমন্ডিতে একিউআই স্কোর ছিল ১৩৯। বারিধারা লেকসাইডে ১০৮, বারিধারা পার্ক রোডে ১০৭ এবং বেচারাম দেউড়িতে ১০৭ স্কোর রেকর্ড করা হয়। এসব এলাকার বাতাস সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে ছিল।

একিউআই স্কোরের অর্থ কী?

একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ‘ভালো’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত ‘মাঝারি’, ১০১ থেকে ১৫০ পর্যন্ত ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ এবং ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে ধরা হয়।

স্কোর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে হলে বাতাসকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ঢাকার বাতাসে যেসব দূষক থাকে:

বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণের সময় পাঁচ ধরনের প্রধান দূষণকারী উপাদান বিবেচনা করা হয়। এগুলো হলো পিএম১০ ও পিএম২.৫ বস্তুকণা, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড এবং ওজোন।

এর মধ্যে পিএম২.৫ অত্যন্ত সূক্ষ্ম হওয়ায় শ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করতে পারে। দীর্ঘ সময় দূষিত বাতাসে থাকার কারণে শ্বাসকষ্ট, কাশি এবং হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসসংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

কেন দূষিত হচ্ছে ঢাকার বাতাস?

যানবাহনের ধোঁয়া, ইটভাটা ও শিল্পকারখানার নির্গমন, নির্মাণকাজের ধুলা, অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য পোড়ানো এবং রাস্তায় জমে থাকা ধুলাবালিকে ঢাকার বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শুষ্ক মৌসুমে বৃষ্টিপাত কম থাকায় বাতাসে ধুলা ও দূষিত কণা দীর্ঘ সময় ভেসে থাকে।

বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে বাতাসের ধুলা ও সূক্ষ্ম বস্তুকণা কিছুটা কমে যায়। ফলে সাধারণত শীত ও শুষ্ক মৌসুমের তুলনায় বর্ষায় ঢাকার বায়ুর মান কিছুটা ভালো থাকে।

বায়ুর মান খারাপ থাকলে বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অপ্রয়োজনে বাইরে না থাকা, বাইরে গেলে মানসম্মত মাস্ক ব্যবহার এবং দীর্ঘ সময় খোলা জায়গায় ব্যায়াম না করার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *