সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৫ আগস্ট ২০২৬
জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘অদম্য জুলাই’ শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষ হয়েছে। দুই পক্ষ আরও বেশি আহত হওয়ার দাবি করলেও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জনকে ভর্তি করার তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার, ৫ আগস্ট সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দুই দফায় সংঘর্ষ, হাতাহাতি এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের একাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
প্রকাশিত একাধিক সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে, সংঘর্ষে আহত অন্তত ১০ জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে দেওয়া হিসাবে মোট আহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। এ কারণে যাচাই করা সংবাদে ‘হাসপাতালে ভর্তি ১০’ তথ্যটি ব্যবহার করাই অধিক নির্ভুল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্পাস সূত্রের বরাতে জানা গেছে, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সকাল ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ‘অদম্য জুলাই’ শীর্ষক একটি শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রাটি একাডেমিক ভবনের নিচতলা থেকে উপাচার্যের বাসভবনের ফটক বা ভিসি গেটের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় শোভাযাত্রায় বহিরাগত ব্যক্তিদের উপস্থিতি রয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে আপত্তি জানান ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় রূপ নেয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল ১০টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তাদের কয়েকজনও আহত হন বলে প্রক্টর জানিয়েছেন।
হাসপাতালে ভর্তি আহত ব্যক্তিদের মধ্যে সাফওয়ান, শিফাত, আল আমিন, হেলাল, রবিউল, মনিরুল ইসলাম, হাফিজ, আব্দুল্লাহ আল বাকি, হৃদয় ও তরিকুল ইসলাম রয়েছেন বলে জানা গেছে। হাসপাতালের চিকিৎসকের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে গুরুতর অবস্থায় পাওয়া যায়নি। কয়েকজন মাথায় আঘাত পাওয়ার কথা জানালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে দুই সংগঠন পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাদের দাবি, ছাত্রশিবির বহিরাগত ব্যক্তিদের নিয়ে ক্যাম্পাসে শোভাযাত্রা করছিল। বহিরাগতদের ছাড়া কর্মসূচি পালনের অনুরোধ জানালে শিবিরের নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের নেতারা দাবি করেছেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বাধা দিয়ে হামলা করেন। সংঘর্ষে সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতিসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে শোভাযাত্রায় বহিরাগতদের উপস্থিতি ছিল কি না এবং কোন পক্ষ প্রথম হামলা করেছে—এসব অভিযোগ কোনো নিরপেক্ষ তদন্তে এখনো নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই দুই সংগঠনের বক্তব্যকে অভিযোগ হিসেবেই সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝির পর একে অপরকে আঘাত করার ঘটনা ঘটে। প্রক্টরিয়াল টিম দুই পক্ষকে থামানোর চেষ্টা করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে তাদের সদস্যরাও আহত হয়েছেন।
বরিশাল মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার বেলাল হোসেন জানিয়েছেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ক্যাম্পাসে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দুই পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।


