সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে-স্কেলে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পেনশনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্য দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, নিট পেনশনের ওপর ভিত্তি করে পাঁচটি ধাপে বা স্তরে পেনশন বাড়ানো হবে। এতে কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্তরা সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুবিধা পাবেন।
তবে বহুল আলোচিত ‘এক পদ এক পেনশন’ বা ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ (OROP) নীতি বৈষম্যহীনভাবে চালু করতে বিপুল অর্থের সংস্থান ও তথ্যগত জটিলতা থাকায় এটি ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অর্থ বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ সূত্রে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গেছে।
পেনশন বৃদ্ধির ৫টি স্তর ও হিসাব: বর্তমানে একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী যে নিট পেনশন পান, তার ওপর ভিত্তি করে বৃদ্ধির এই ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছে:
প্রথম স্তর (৯,০০০ টাকা পর্যন্ত): ১০০% বৃদ্ধি পাবে। ফলে ৯ হাজার টাকা নিট পেনশনধারী পাবেন ১৮ হাজার টাকা।
দ্বিতীয় স্তর (৯,০০১ থেকে ২০,০০০ টাকা): ৭৫% বৃদ্ধি পাবে। ২০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া কর্মচারী পাবেন ৩৫ হাজার টাকা।
তৃতীয় স্তর (২০,০০১ থেকে ৩০,০০০ টাকা): ৬৫% বৃদ্ধি পাবে। ৩০ হাজার টাকা পেনশনধারীর প্রাপ্তি দাঁড়াবে ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা।
চতুর্থ স্তর (৩০,০০১ থেকে ৪০,০০০ টাকা): ৬০% বৃদ্ধি পাবে। ৪০ হাজার টাকা পেনশনে তা দাঁড়িয়ে হবে ৬৪ হাজার টাকা।
পঞ্চম স্তর (৪০,০০০ টাকার উপরে): ৫৫% হারে পেনশন বাড়ানো হবে।
পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে ‘এক পদ এক পেনশন’ (OROP) একই পদ বা গ্রেড থেকে বিভিন্ন সময়ে অবসরে যাওয়া কর্মচারীদের পেনশনের বড় বৈষম্য দূর করতে সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ চালুর। বর্তমানে অনেক আগে অবসরে যাওয়া কোনো কর্মকর্তা একই স্কেলে সদ্য অবসরে যাওয়া ব্যক্তির চেয়ে অনেক কম পেনশন পান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, সাময়িক ও বেসামরিক উভয় খাতেই এটি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তবে একবারে পুরো OROP ব্যবস্থা চালু করতে বিপুল অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন। এছাড়া ২০১৯ সালের আগে অবসরে যাওয়া অনেক বেসামরিক কর্মচারীর প্রয়োজনীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ বা তথ্য সরকারের হাতে নেই। এ কারণে রূপরেখা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এটি পুরোপুরি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কম পেনশন পাওয়া প্রবীণ অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক সুরক্ষা ও স্বস্তি দেওয়াই এই পাঁচ ধাপের পুনর্বিন্যাসের মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ।


