জাতীয় ডেস্ক | সংবাদ সারাদিন
ঢাকা, ২৮ অক্টোবর ২০২৬: ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানী ঢাকায় বিএনপির সরকার পতনের একদফা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষ, সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশ, আওয়ামী লীগের পাল্টা কর্মসূচি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে দিনভর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা।
সময় নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেদিন নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ করে। এতে সমাবেশের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে আসা বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সমাবেশে অংশ নেন।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগও বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে পাল্টা কর্মসূচি দিয়েছিল। দুই দলের কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়ার পথে কাকরাইল ও বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটসহ কয়েকটি এলাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়।
বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর
দিনভর সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে কাকরাইল, বিজয়নগর, শান্তিনগরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়। এ সময় প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুর, পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ এবং বিভিন্ন যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের মধ্যে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সময় নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিনের সহিংসতায় একজন যুবদল কর্মী ও একজন পুলিশ সদস্য নিহত হন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, পুলিশ এবং সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।
মামলা ও গ্রেপ্তার
ঘটনার পর হত্যা, বিস্ফোরক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে ৩৬টি মামলা করা হয়। এসব মামলায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং আরও কয়েক হাজার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মোট ১ হাজার ৭২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর এসব মামলায় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় এবং দলটির নেতাকর্মীরা পর্যায়ক্রমে মুক্তি পান।
রাজনৈতিক ইতিহাসে ২৮ অক্টোবর
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর একটি আলোচিত দিন। সরকার পতনের দাবিতে বিএনপির আন্দোলন, আওয়ামী লীগের পাল্টা কর্মসূচি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
তিন বছর পর দিনটি ফিরে আসার প্রেক্ষাপটে ওই সময়ের রাজনৈতিক কর্মসূচি, সহিংসতা, প্রাণহানি এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া আবারও আলোচনায় এসেছে।


