সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় চাঞ্চল্যকর শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন হত্যা মামলার ঘটনায় দীর্ঘ তদন্ত ও ছায়াতদন্তের ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার একটি স্থানীয় আবাসিক হোটেল থেকে এজাহারভুক্ত দুই শীর্ষ অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে চট্টগ্রাম পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই দুজনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন মোহাম্মদপুরের বহিষ্কৃত যুবদল নেতা রিপন ওরফে রিপন মাস্টার এবং চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী বাদল ওরফে কাইল্লা বাদল।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত কাইল্লা বাদল মোহাম্মদপুরের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ও কুখ্যাত ‘কিলার পাপ্পু’ বা পাপুর অন্যতম প্রধান সহযোগী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুরের তিন রাস্তার মোড়, বসিলা সড়ক এবং বিভিন্ন ফুটপাতে একচ্ছত্র চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, হত্যা মামলা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কের ওপর হামলার ঘটনায় কাইল্লা বাদলের নাম জোরালোভাবে উঠে এসেছিল। অন্যদিকে, অপর অভিযুক্ত রিপন মাস্টার মোহাম্মদপুরের আরেক সন্ত্রাসী লাল্লুর নাম ও প্রভাব ভাঙিয়ে এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও লোকজনের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদাবাজি করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি বসিলার বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে মোবাইল ফোনে চাঁদার দাবিতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় রিপন মাস্টারের বিরুদ্ধে থানায় সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল রাতে নিউমার্কেটের পেছনের অংশে অবস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শাহ নেওয়াজ ছাত্রাবাসের ঠিক সামনে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যাপ ও মাস্ক পরা দুই সন্ত্রাসী মোটরসাইকেলে এসে টিটনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত টিটনের বিরুদ্ধে পূর্বে বিভিন্ন অপরাধের মামলা থাকলেও ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তিনি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করেছিলেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিহত টিটনের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন বাদী হয়ে নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যেখানে বসিলায় কোরবানি পশুর হাটের ইজারা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলাল, বাদল ওরফে কিলার বাদল, শাহজাহান ও রনি ওরফে ভাঙারি রনির নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। মামলার এজাহারভুক্ত এই আসামিদের গ্রেপ্তারের ফলে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বাকিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।


