২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি আরও ২ হাজার ৭১ জন, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ঢাকা বিভাগে।
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। এডিস মশাবাহিত এই রোগে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরের একদিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৭১ জন ডেঙ্গু রোগী। এ নিয়ে ২০২৬ সালে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০০ জনে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক রোগী
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৮৯৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ২৫০ জন, চট্টগ্রামে ২৪১ জন, রাজশাহীতে ২২৯ জন, বরিশালে ২১৭ জন, রংপুরে ১১২ জন, ময়মনসিংহে ৯৭ জন এবং সিলেট বিভাগে ২৬ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় ডেঙ্গু যে শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক সমস্যা নয়, তা আবারও স্পষ্ট হয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় কোথায় কত মৃত্যু
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১১ জনের মধ্যে খুলনা বিভাগে ছয়জন, ঢাকা বিভাগে তিনজন এবং চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে একজন করে রয়েছেন।
চলতি বছরের এর আগের সর্বোচ্চ দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১০, যা ৬ ও ১৫ অক্টোবর রেকর্ড করা হয়েছিল। মঙ্গলবার সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে নতুন সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
হাসপাতালে ভর্তি ছাড়িয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ২৮ হাজার ২৩৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
তাদের মধ্যে ১ লাখ ২১ হাজার ৪২২ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬ হাজার ৪১৫ জন রোগী।
অক্টোবরেই ১৫৫ জনের মৃত্যু
চলতি বছরের মাসভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুতে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। অথচ অক্টোবরের প্রথম ২৭ দিনেই প্রাণ হারিয়েছেন ১৫৫ জন।
এর আগে আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়।
গত বছরের তুলনায় পরিস্থিতি
২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৬৬ হাজার ৪২৩ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ২৬৯ জনের।
অন্যদিকে চলতি বছরের একই সময় পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ২৩৭ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৪০০ জনের।
অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা প্রায় ৯৩ শতাংশ এবং মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৪৯ শতাংশ বেড়েছে।
উল্লেখ্য, পুরো ২০২৫ সালে দেশে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। চলতি বছরের অক্টোবর শেষ হওয়ার আগেই গত বছরের মোট হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে।
ডেঙ্গুর যেসব লক্ষণে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, বমিভাব এবং দুর্বলতা।
তবে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট কিংবা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। জ্বর কমে যাওয়ার পরও গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও তরল খাবার গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেনজাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়।
প্রতিরোধে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসাবাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। বিশেষ করে ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ছাদ, পানির ট্যাংক ও নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন স্থানে যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে নজর দিতে হবে।
পাশাপাশি মশার কামড় এড়াতে মশারি, উপযুক্ত মশা প্রতিরোধক এবং শরীর ঢাকা পোশাক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


