সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শারমীন আক্তার শিমুর সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পদোন্নতির জন্য জমা দেওয়া গবেষণাপত্রে ব্যাপক হারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর (AI-generated) লেখাসমৃদ্ধ কন্টেন্ট শনাক্তকরণ, একই পিএইচডি সময়কাল একাধিকবার অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখানো এবং প্রাতিষ্ঠানিক নথি ছাড়াই জাপানের স্বল্পমেয়াদি কাজকে ‘পোস্টডক্টরাল অভিজ্ঞতা’ হিসেবে উপস্থাপনের মতো অনিয়মের চিত্র সামনে এসেছে।
গত ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের পদোন্নতি বোর্ডের সভায় এই বিতর্কিত বিষয়টি সামনে আসে। প্রাপ্ত নথিপত্র ও আন্তর্জাতিক সফটওয়্যার ‘আইথেন্টিকেট’ (iThenticate)-এর এআই শনাক্তকরণ প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৪ সালে প্রকাশিত জাবি পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের নিজস্ব জার্নালে ড. শিমুর একটি যৌথ গবেষণাপত্রে শতকরা ৬২ ভাগ এআই-জেনারেটেড লেখা শনাক্ত হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গবেষণাপত্রটির মোট ৪৮টি অংশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে লেখা। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও একাডেমিশিয়ানদের দাবি, গবেষণায় এ ধরনের অনৈতিক এআই প্রযুক্তি ব্যবহার শিক্ষায় চরম মৌলিকত্বহীনতা প্রকাশ করে।
শুধু গবেষণায় অনিয়মই নয়, পদোন্নতি পেতে চাকরির মেয়াদ ও অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রেও অসংগতি তৈরির অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষকের পাঠানো লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রভাষক হিসেবে যোগ দেওয়ার আগেই পিএইচডি সম্পন্ন করায় প্রথমবার সুবিধা নিয়ে তিন বছরের পরিবর্তে দুই বছরে সহকারী অধ্যাপক হন ড. শিমু। কিন্তু পরবর্তীতে আবারও একই পিএইচডির ৩ বছরের সময়কালকে ‘বিদেশে গবেষণা অভিজ্ঞতা’ হিসেবে পেছনের তারিখ দেখিয়ে সাড়ে তিন বছরের মাথায় সহযোগী অধ্যাপক পদে আবেদন করেন। এছাড়া জাপানের হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয়ে সাড়ে পাঁচ মাসের সাধারণ একটি কাজকে অফার লেটার বা অর্থায়নের উৎস সংক্রান্ত নথি ছাড়াই কেবল একটি প্রত্যয়নপত্রের ওপর ভর করে ‘পোস্টডক্টরাল অভিজ্ঞতা’ হিসেবে জমা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, এসব অনিয়ম সত্ত্বেও প্রার্থীর পক্ষে জোর প্রভাব খাটিয়ে সুপারিশ করার পেছনে যুক্ত রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দীন। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত প্রভাব খাটানোর অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যাপক জামাল উদ্দীন জানান, সিলেকশন বোর্ডে তার কোনো ক্ষমতা নেই এবং গবেষণার ত্রুটি দেখা তার দায়িত্ব নয়। অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক ড. শারমীন আক্তার শিমু এআই ব্যবহারের মাত্রা এত বেশি হওয়ার কথা নয় বলে দাবি করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা মেনেই সব আবেদন করেছেন বলে জানান। পদোন্নতি বোর্ডের সদস্যরা বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানালেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, প্রকাশনার মান নির্ধারণের দায়িত্ব সিলেকশন বোর্ডের ওপরই বর্তায়।


