ইয়েমেনে ইরানি মিত্র হুতিদের ঘাঁটিতে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর তীব্র বিমান হামলা, বহু হতাহতের আশঙ্কা

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২  সেপ্টেম্বর | আপডেট: ১২  সেপ্টেম্বর ২০২৬  

ইয়েমেনের কৌশলগত উপকূলীয় অঞ্চল মোখায় ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ও আস্তানায় সৌদি জোট-সমর্থিত সরকারি বাহিনী একযোগে জোরালো বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে হুতিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। মোখার উত্তর পাশের রিং রোডে অবস্থিত এক সাবেক সামরিক কর্মকর্তার কার্যালয়ে সমবেত হওয়া হুতি সদস্যদের লক্ষ্য করে এ সুনির্দিষ্ট বিমান হামলা পরিচালনা করা হয় বলে যৌথ বাহিনীর কর্মকর্তা আল-নুজাইলি নিশ্চিত করেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে হামলায় সুনির্দিষ্ট প্রাণহানি বা ধ্বংসযজ্ঞের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ না মিললেও সেখানে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

২০১৪ সালে রাজধানী সানা ও দেশের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড হুতিদের দখলে যাওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটি গত প্রায় ১২ বছর ধরে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে জর্জরিত। ২০২২ সালে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর ইয়েমেনের সাময়িক সামরিক উত্তেজনা কিছুটা কমেছিল। তবে ২০২৩ সালের শেষভাগে গাজা সংঘাত শুরু হওয়ার পর হুতিরা অঞ্চলটিতে নিজেদের তৎপরতা বাড়ায় এবং লোহিত সাগরে ইসরায়েলমুখী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় ইয়েমেন উপকূলে আবারও নতুন করে সৌদি-সমর্থিত জোট এবং হুতিদের মধ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধাবস্থা ও বিমান হামলা ফিরে এসেছে।

লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্রোহী হুতিদের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর সাঁজোয়া ও আকাশপথে হামলা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংঘাতময় অঞ্চলগুলোতে হুতিদের প্রতিরোধ চুরমার করে দিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে চাইছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সাম্প্রতিক এই নতুন দফার আকাশ হামলায় ইয়েমেনের যুদ্ধ পরিস্থিতি আবারও চরম অস্থিতিশীলতার দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অর্থনীতিকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *