আসন্ন বিশ্বকাপের পরও আন্তর্জাতিক ফুটবল চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো: অবসরের পরিকল্পনা বদলের আসল কারণ খোলাসা করলেন পর্তুগিজ মহাতারকা

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬  

আসন্ন বিশ্বকাপই হতে যাচ্ছে তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট—পূর্বে এমন ঘোষণা দিয়েছিলেন পর্তুগালের মহাতারকা ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বয়স ইতিমধ্যে ৪১ বছর পেরিয়ে যাওয়ায় ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলের জার্সিতে তাকে আর কখনো দেখা যাবে না বলেই ধরে নিয়েছিলেন বিশ্বজুড়ে থাকা তাঁর কোটি কোটি ভক্ত ও ফুটবল বিশ্লেষকরা। তবে ফুটবলপ্রেমীদের সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজের সেই পূর্বের সিদ্ধান্ত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে এসেছেন সিআর সেভেন। পর্তুগালের হয়ে আরও নতুন গৌরব ও ট্রফি অর্জন করা, ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে পেশাদার ক্যারিয়ারে ১ হাজার গোলের অবিশ্বাস্য মাইলফলক স্পর্শ করা এবং দলে উঠে আসা তরুণ প্রজন্মের পাশে থেকে তাদের পথপ্রদর্শন করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ার আরও দীর্ঘায়িত করার এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে উয়েফা নেশনস লিগে ওয়েলসের বিপক্ষে মাঠে নামার ঠিক আগে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন পর্তুগালের এই সফলতম ফরোয়ার্ড। ৪১ বছর বয়সী রোনালদো স্বীকার করেন যে, অবসর নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি নিজেও গভীরভাবে ভেবেছিলেন এবং নিজের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে তিনি সবসময়ই নিয়মিত চিন্তাভাবনা করেন। তবে জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি এবং পর্তুগাল দলের কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পর তিনি নিজের অবস্থান সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করতে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। রোনালদোর সুদৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে যে, পর্তুগাল জাতীয় দলকে বিশ্বমঞ্চে আরও বড় সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এবং মাঠের বাইরে ড্রেসিংরুমে তরুণ খেলোয়াড়দের সঠিক দিকনির্দেশনা ও মানসিক শক্তি জুগিয়ে যাওয়ার জন্য এখনো তার কার্যকর ভূমিকা পালনের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর জীবনের আরেকটি সুমহান ব্যক্তিগত লক্ষ্য, যা হলো ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ১ হাজার গোলের গোল্ডেন মাইলফলক স্পর্শ করা। বর্তমানে এই ঐতিহাসিক রেকর্ড থেকে মাত্র ২১টি গোল দূরে অবস্থান করছেন তিনি, ফলে দেশের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে জাতীয় দলের সাফল্য এবং ব্যক্তিগত এই স্বপ্ন পূরণ—উভয়কেই সমানভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন পর্তুগিজ এই সেনসেশন। জাতীয় দলের হয়ে ইতোমধ্যেই ২৩৩টি ম্যাচ খেলে ফেলা রোনালদোর সামনে এখন এক নতুন ও রোমাঞ্চকর অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। উয়েফা নেশনস লিগ দিয়ে শুরু হওয়া এই নতুন যাত্রায় দেশের জার্সিতে আরও কিছু অবিস্মরণীয় অর্জন যোগ করার পাশাপাশি তাঁর বহু কাঙ্ক্ষিত ১ হাজার গোলের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলার পরই হয়তো তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চিরবিদায় জানানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *