সংবাদ সারাদিন | নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর হাজারীবাগে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের একটি গুদামে সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, ২৩টি মোটরসাইকেলে করে আসা প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ জনের একটি দল সেখানে হামলা চালায়। এ সময় নিরাপত্তা ক্যামেরা ভাঙচুরের পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের যন্ত্র ডিভিআর নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। ঘটনায় প্রায় ৩১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।
সময় নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর হাজারীবাগে শিকদার মেডিকেলের পেছনে মেন্ডী ডেন্টাল রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত করছে পুলিশ।
১৮ মিনিট ধরে চলে হামলা ও ভাঙচুর
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটের দিকে একের পর এক মোটরসাইকেলে করে একদল ব্যক্তি ঘটনাস্থলে আসেন। তাঁদের অনেকের মাথায় হেলমেট এবং মুখে মাস্ক ছিল। সিসিটিভি ফুটেজে ২৩টি মোটরসাইকেলে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ জনকে আসতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিরা প্রতিষ্ঠানের মূল ফটক দিয়ে এবং দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর তাঁরা নিরাপত্তা ক্যামেরা ভাঙচুর করেন এবং দুটি সার্ভার কক্ষে থাকা ডিভিআর নিয়ে যান। প্রায় ১৮ মিনিট পর দলটি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের দাবি, চলে যাওয়ার সময় হামলাকারীরা পুনরায় আসার হুমকিও দেন। তবে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও তাঁদের উদ্দেশ্য তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
ভাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ
প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগের বরাতে সময় নিউজ জানায়, সিকদার গ্রুপের কাছ থেকে মাসিক চার লাখ টাকা ভাড়ায় একটি প্লট নিয়ে সেখানে কুরিয়ার সার্ভিসের গুদাম পরিচালনা করা হচ্ছিল।
প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, হামলাকারীরা নিজেদের শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের লোক বলে পরিচয় দিয়ে ওই জায়গার ভাড়া দাবি করেন। তবে তাঁদের পরিচয় এবং কথিত ভাড়া দাবির সঙ্গে হামলার সম্পর্ক স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এক কর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। আরেক কর্মী প্রায় ১০০টি নিরাপত্তা ক্যামেরা নিয়ে যাওয়ার দাবি করেছেন। তবে ক্যামেরার সঠিক সংখ্যা এবং মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ
ঘটনার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলামের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় প্রতিষ্ঠানের ক্যামেরা, ডিভিআর ও ল্যাপটপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং কী কারণে হামলা চালানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া না গেলেও আশপাশের এলাকার ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
রাজধানীর একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সংঘবদ্ধভাবে হামলা, ভাঙচুর এবং নজরদারির সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলাকারীদের পরিচয় এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে পুলিশের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।


