সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যুক্তরাজ্যের আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ‘ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেস’ (ন্যাটস)-এর ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমে আকস্মিক কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশজুড়ে দেখা দিয়েছে নজিরবিহীন ফ্লাইট বিপর্যয়। এতে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক দিনেই ১,০০০-এরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং বিলম্বিত হয়েছে আরও শত শত আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট। হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া এই অচলাবস্থায় যুক্তরাজ্যসহ সমগ্র ইউরোপজুড়ে লাখ লাখ যাত্রী চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
যেভাবে ঘটলো বিপর্যয়
সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে ন্যাটসের বিমান সংক্রান্ত স্বয়ংক্রিয় তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থায় (ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেম) হঠাৎ ত্রুটি দেখা দেয়। যদিও যুক্তরাজ্যের আকাশসীমা খোলা রাখা হয়েছিল, তবে ম্যানুয়ালি কাজ করতে গিয়ে প্রতিটি বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামার গতি তীব্রভাবে কমিয়ে দিতে বাধ্য হন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর তথ্যমতে, এই ত্রুটির ফলে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত লন্ডনের অন্যতম ব্যস্ততম বিমানবন্দর হিথ্রো, গ্যাটউইক, স্ট্যানস্টেড, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম ও এডিনবার্গের মতো প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে ১,০৫৫টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়। অনেক বিমানকে আকাশে ঘুরিয়ে অন্য দেশে জরুরি অবতরণ করাতে হয়।
এয়ারলাইন্স ও যাত্রীদের পরিস্থিতি
ফ্লাইট বাতিলের দৌড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, রাইয়ানএয়ার, ইজিজেট, কেএলএম এবং লুফথানসার মতো বড় বিমান সংস্থাগুলো। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ তাদের শতাধিক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। রাইয়ানএয়ার জানিয়েছে, তাদের অন্তত ৫০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং প্রায় ৬৫ হাজার যাত্রী প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
অনেক বিমানবন্দরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রানওয়েতে আটকে থাকে যাত্রীবাহী বিমান। অনেক যাত্রীকেই ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা বিমানের ভেতরে অপেক্ষা করানোর পর শেষ মুহূর্তে জানানো হয় ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত। এছাড়া বিমান ও কেবিন ক্রুরা নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতে না পারায় পরবর্তী দিনগুলোতেও এ জটিলতার রেশ থাকবে বলে সতর্ক করেছে বিমান সংস্থাগুলো।
সিস্টেম পুনরুদ্ধার ও তদন্তের নির্দেশ
টানা চার ঘণ্টা চেষ্টার পর মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ন্যাটস জানায়, কারিগরি সমস্যাটি সমাধান করা সম্ভব হয়েছে এবং তাদের সিস্টেম পুনরায় চালু করা হয়েছে। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী মার্টিন রোলফ এই অনাকাঙ্ক্ষিত অচলাবস্থার জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার দায়িত্ব নিয়েছেন।
তবে গত তিন বছরের মধ্যে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ন্যাটসের বিমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এয়ারলাইন্সগুলো। রাইয়ানএয়ারের মতো কিছু সংস্থা ন্যাটসের প্রধান নির্বাহীর পদত্যাগেরও দাবি তুলেছে।
যুক্তরাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী হেইডি অ্যালেকজান্ডার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে এবং যুক্তরাজ্যের এভিয়েশন অবকাঠামোর এমন পুনরাবৃত্তিমূলক ত্রুটি কেন ঘটছে সে বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে।


