নিজস্ব প্রতিবেদক | সংবাদ সারাদিন
পিরোজপুর, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। তাঁর দাবি, জানাজা বা দাফন নিয়ে তাঁদের কোনো আপত্তি ছিল না; আপত্তি ছিল মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান নিয়ে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বক্তব্য তুলে ধরেন। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে।
‘গার্ড অব অনার’ নিয়ে আপত্তির দাবি
মাসুদ সাঈদীর বক্তব্য অনুযায়ী, মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ পিরোজপুরে আনা হলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় কিছু মানুষ তাঁর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং গার্ড অব অনার প্রদানে আপত্তি জানান বলে দাবি করেন তিনি।
মাসুদ সাঈদী বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানিক পশারীকে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও স্থানীয় পর্যায়ে এ নিয়ে আপত্তি ছিল। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি এবং পিরোজপুরের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। জামায়াতে ইসলামীও পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করেছে বলে জানান তিনি।
মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন
ফেসবুক পোস্টে মাসুদ সাঈদী মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় ও গেজেটভুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় মানিক পশারী সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছিলেন, যদিও মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করার কথা বলেছিলেন।
মাসুদ সাঈদীর বক্তব্য অনুযায়ী, তৎকালীন সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল মানিক পশারীর নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য একটি ডিও লেটার দিয়েছিলেন। এ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্তের দাবি জানান তিনি।
তবে মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়, গেজেটভুক্তির প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া প্রয়োজন। এসব অভিযোগকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার দাবি
পোস্টে মাসুদ সাঈদী মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার দাবি জানান। তাঁর বক্তব্য, সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্তি ও ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, যাচাই-বাছাই কমিটি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করা উচিত।
তিনি মানিক পশারীর নাম মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট থেকে বাতিল এবং তাঁকে দেওয়া রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও ভাতা বন্ধেরও দাবি জানান। পাশাপাশি এ কে এম এ আউয়ালের ভূমিকা তদন্তের আহ্বান জানান তিনি।
ঘটনাটি ঘিরে বিতর্ক
মানিক পশারী ছিলেন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী। তাঁর মৃত্যু এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে পিরোজপুরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
মাসুদ সাঈদী তাঁর বক্তব্যে জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করলেও ঘটনাটির সব দিক নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, পরিবারের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।


