বাজেট বরাদ্দের চেয়েও দ্রুত খালি তহবিলের সুযোগ: এলএনজি ও জ্বালানি ভর্তুকির সিংহভাগ শেষ মাত্র দুই মাসে

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬  

মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র সংঘাত ও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের উর্ধ্বগতির কারণে বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। পুরো ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এলএনজি বাবদ যে ৬,৫০০ কোটি টাকা ভর্তুকি ধরা হয়েছিল, অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই (জুলাই-আগস্ট) সেই বরাদ্দ ছাড়িয়ে তা ৭,৩০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। চড়া দামে জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানি করে দেশের বাজারে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করায় লোকসানের পাল্লা আশঙ্কাজনক হারে ভারি হচ্ছে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতির লাগাম টানা না গেলে চলতি অর্থবছর শেষে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সরকারের সার্বিক ভর্তুকি ও লোকসানের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে।

জ্বালানি খাতে মূল লোকসান ও পরিস্থিতির চিত্র:

পেট্রোবাংলা (এলএনজি ভর্তুকি): গত ৬ মাসে মূল নির্ধারিত ভর্তুকির বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত ১৪,৯০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে পেট্রোবাংলা। স্পট মার্কেটে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ১০-১২ ডলার থেকে লাফিয়ে বর্তমানে ২৮ ডলারে উঠে গেছে। কাতার ও ওমান চুক্তি সত্ত্বেও সরবরাহ ব্যাহত করায় বাংলাদেশকে বাধ্য হয়ে খোলাবাজার (Spot Market) থেকে আকাশচুম্বী দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে।

বিপিসি (জ্বালানি তেল): আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে দেশীয় সমন্বয় না করায় গত আগস্ট পর্যন্ত ৬ মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান ২২ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করেছে।

বিপিডিবি (বিদ্যুৎ উৎপাদন): বিদ্যুৎ খাতে চলতি অর্থবছরে লোকসান ৪৫ হাজার কোটি টাকা ধরা হলেও ফার্নেস অয়েল, কয়লা ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এটি ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য:

পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, “দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীরা ‘ফোর্স মেজর’ (আকস্মিক সংকট) ঘোষণা করায় বাধ্য হয়ে সরকারকে উচ্চমূল্যে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। গ্রাহক পর্যায়ে দুর্ভোগ ও শিল্প-কারখানার চাকা সচল রাখতেই সরকার এই বিশাল আর্থিক ঝুঁকি নিজের কাঁধে নিয়েছে।”

আইইইএফএ (IEEFA)-র বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ:

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিসিস-এর প্রধান বিশ্লেষক শফিকুল আলম সতর্ক করে জানান, প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি ২৮ ডলারে আমদানি করলে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসে সরকারকে ৯০ টাকার বেশি ভর্তুকি গ গুনতে হচ্ছে। এই দুর্বিষহ চাপ থেকে রক্ষা পেতে তিনটি বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি— ১. দ্রুততম সময়ে দেশীয় কূপ থেকে নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন বৃদ্ধি। ২. নবায়নযোগ্য বা সৌর শক্তির ব্যবহার দ্রুত সম্প্রসারণ। ৩. সর্বক্ষেত্রে জ্বালানির অপচয় রোধ ও সিস্টেম লস কমানো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *