সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি তোলা ও টিকটক তৈরির সূত্রে গড়ে ওঠা বন্ধুত্বের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক ভয়ঙ্কর লোভ—যার নির্মম বলি হতে হয়েছে কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে। আইফোনের প্রতি লালসা থেকে ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকেই সহপাঠী ও পরিচিত যুবকরা এই হত্যাকাণ্ডের নিখুঁত ছক কষেছিল। গত ১৮ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হওয়ার পরদিন কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া তিন আসামি আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছেন।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯) এবং অপর দুই কিশোর গত ২০ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তাদের বয়ানে উঠে এসেছে যে, ছবি তোলা এবং টিকটক ভিডিও তৈরির সুবাদে অপ্রতিমের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়েছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে অপ্রতিমের ব্যবহৃত দামি আইফোনটির প্রতি লোভ চেপে বসে তুহিন ও অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত এক কিশোরের মনে। ঘটনার ঠিক আগের শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের কাছে বসে আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়া এবং পরবর্তীতে অপ্রতিমকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর টিকটকের মাধ্যমে যোগাযোগ করে অপ্রতিমের সঙ্গে দেখা করে আসামিরা। পরদিন ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে ‘ছবি তোলার’ কথা বলে অপ্রতিমকে সানন্দা এলাকার লালমাই পাহাড়ের একবারে নির্জন স্থানে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে গল্প করার একপর্যায়ে কৌশলে অপ্রতিমের হাত থেকে আইফোনটি প্রথমে হাতে নেয় দোকানে কর্মরত সেই কিশোর এবং পরে তা তুলে দেওয়া হয় তুহিনের হাতে। ফোনটি ফেরত চাওয়ামাত্রই শুরু হয় কথা-কাটাকাটি। একপর্যায়ে তুহিন প্রথমে অপ্রতিমকে থাপ্পড় মারেন এবং পরবর্তীতে কাছেই পড়ে থাকা একটি কোদালের হাতল দিয়ে তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করেন। হত্যাকাণ্ড শেষে আইফোনটি বিক্রির মাধ্যমে টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে আসামিরা স্বীকার করেছে। লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অব্যাহত রয়েছে।


