সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দেশীয় অস্ত্র ও টেঁটাযুদ্ধের এই ভয়াবহ সহিংসতায় ঘটনাস্থলেই এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় জুয়েল মিয়া (৩২) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ মোট ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে দুই পক্ষের এই সশস্ত্র সংঘাতের ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়ে স্থানীয় মতি মেম্বারের ভাতিজা আমির হোসেন ও মুক্তার পক্ষের লোকজনের সঙ্গে সেফু সরকার ও আজগর আলী সরকার পক্ষের লোকজনের বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে সোমবার ভোররাতের দিকে উভয় পক্ষের শত শত লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও টেঁটা নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়লে একপর্যায়ে সেখানে নির্বিচারে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে, যার ফলে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নীলক্ষা এলাকার সেন্টু মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়াসহ বেশ কয়েকজন হতাহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে নরসিংদীর রায়পুরা থানার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে স্বাধীন মিয়ার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাঞ্ছারামপুর থানা পুলিশ এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পুলিশের কঠোর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং এলাকায় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াছিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, পূর্বশত্রুতার জেরে ভোররাতের দিকে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জন গুলিবিদ্ধসহ মোট ১৫ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।


