মাথাপিছু জিডিপিতে ইউরোপের আধিপত্য, শীর্ষ দশে রয়েছে এশিয়ার সিঙ্গাপুরও।
সংবাদ সারাদিন | অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক
বিশ্ব অর্থনীতিতে সম্পদ ও সমৃদ্ধির বিচারে কোন দেশ কতটা এগিয়ে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) সর্বশেষ অর্থনৈতিক প্রাক্কলনে উঠে এসেছে বিশ্বের শীর্ষ ধনী দেশগুলোর তালিকা।
২০২৬ সালের অক্টোবরের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক তথ্য অনুযায়ী, মাথাপিছু নামমাত্র মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির ভিত্তিতে বিশ্বের শীর্ষস্থানে রয়েছে ইউরোপের ছোট দেশ লিশটেনস্টাইন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে লুক্সেমবার্গ ও আয়ারল্যান্ড।
বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনী দেশ
২০২৬ সালের জন্য IMF-এর প্রাক্কলিত মাথাপিছু নামমাত্র জিডিপির হিসাবে দেশগুলোর অবস্থান—
| অবস্থান | দেশ | মাথাপিছু জিডিপি (ডলার) |
|---|---|---|
| ১ | লিশটেনস্টাইন | ২,৩০,৪১৭ |
| ২ | লুক্সেমবার্গ | ১,৫৫,৭৩৩ |
| ৩ | আয়ারল্যান্ড | ১,২৭,৮৩৭ |
| ৪ | সুইজারল্যান্ড | ১,২৪,৪৭৮ |
| ৫ | নরওয়ে | ১,১৫,১৮৮ |
| ৬ | সিঙ্গাপুর | ১,০৯,১১৭ |
| ৭ | আইসল্যান্ড | ১,০৭,৪৬৪ |
| ৮ | যুক্তরাষ্ট্র | ৯৫,২১২ |
| ৯ | ডেনমার্ক | ৮২,৭১৪ |
| ১০ | নেদারল্যান্ডস | ৭৮,৫৩৫ |
শীর্ষে কেন লিশটেনস্টাইন?
ইউরোপের আল্পস পর্বতমালা অঞ্চলে অবস্থিত ছোট্ট দেশ লিশটেনস্টাইন। আয়তন ও জনসংখ্যায় ছোট হলেও উচ্চমূল্যের বিশেষায়িত উৎপাদনশিল্প, আর্থিক সেবা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কারণে দেশটির অর্থনীতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ।
তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা লুক্সেমবার্গ ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও বিনিয়োগ কেন্দ্র। অন্যদিকে তৃতীয় স্থানে থাকা আয়ারল্যান্ড প্রযুক্তি, ওষুধশিল্প এবং বহুজাতিক কোম্পানির কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছে।
এশিয়ার একমাত্র প্রতিনিধি সিঙ্গাপুর
শীর্ষ দশের তালিকায় এশিয়ার একমাত্র দেশ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে সিঙ্গাপুর। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আধুনিক বন্দরব্যবস্থা, প্রযুক্তি, ব্যাংকিং এবং আর্থিক সেবায় দেশটির শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে।
অন্যদিকে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র মোট জিডিপিতে এগিয়ে থাকলেও মাথাপিছু জিডিপির এই তালিকায় রয়েছে অষ্টম অবস্থানে।
ধনী দেশের তালিকা কীভাবে নির্ধারিত হয়?
এখানে ধনী দেশের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে মাথাপিছু নামমাত্র জিডিপির ভিত্তিতে। অর্থাৎ একটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে মার্কিন ডলারে হিসাব করা হয়েছে।
তবে মাথাপিছু জিডিপি বেশি হওয়ার অর্থ এই নয় যে দেশটির প্রত্যেক নাগরিক সমপরিমাণ অর্থ আয় করেন। ব্যক্তিগত আয়, সম্পদের বণ্টন, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্র এই সূচকে সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ পায় না।
ছোট দেশগুলোর আধিপত্য কেন?
তালিকার উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, শীর্ষস্থানীয় অনেক দেশের জনসংখ্যা তুলনামূলক কম। উচ্চ উৎপাদনশীলতা, দক্ষ কর্মশক্তি, উন্নত প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ মাথাপিছু জিডিপি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষ করে ইউরোপের ছোট ও উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো আর্থিক সেবা এবং উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্পের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে তাই শুধু একটি দেশের মোট অর্থনীতির আকার নয়, বরং সেই অর্থনীতিতে জনসংখ্যার অনুপাতে কতটা উৎপাদন হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF), World Economic Outlook, অক্টোবর ২০২৬। পরিসংখ্যানগুলো ২০২৬ সালের প্রাক্কলন, চূড়ান্ত ফলাফল নয়।


