সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর)। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে এই বিচারিক প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
এর আগে গত ১৭ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারিত থাকলেও আদালতে কোনো সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় বিচারক পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১০ সেপ্টেম্বর তারিখ ধার্য করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এই আলোচিত মামলায় মোট ২৮ জন সাক্ষী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গত ১৬ জুলাই বস্ত্র অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (কারিগরি) মো. ফয়সাল কবির আদালতে সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে নিজের বক্তব্য প্রদান করেন।
দুদকের সমন্বিত অভিযোগপত্রে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন, সম্পদের প্রকৃত তথ্য গোপন করা এবং অর্থপাচারের মারাত্মক অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদক জানায়, আসামি তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের উল্লেখ করেছিলেন। তবে দীর্ঘ ও নিবিড় অনুসন্ধান শেষে তদন্তকারী দল তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পায়।
তদন্ত প্রতিবেদনে হিসাব করে দেখা যায়, বেনজীর আহমেদের বৈধ আয় ছিল ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা এবং নিট সঞ্চয় ছিল ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। এই বৈধ আয়ের বাইরে গিয়ে তিনি প্রায় ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার অবৈধ বা জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। পাশাপাশি সম্পদের আসল উৎস ও মালিকানা গোপন করতে অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং যৌথ মূলধনী কারবারে স্থানান্তর, রূপান্তর ও বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উঠে আসে।
২০২৪ সালে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার পর অনুসন্ধানে নামে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও দুদক। একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করেন। তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দেওয়া হলে বিচারক তা আমলে নিয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তিনি আদালতে সমন পেয়েও উপস্থিত না হওয়ায় গত ৩ মে তার অনুপস্থিতিতেই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করা হয়। আজকের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই মামলার আইনি প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


