ইনানী জাতীয় উদ্যানে ক্যামেরায় ধরা দিল বিরল ‘মেঘলা চিতা’: মিলল আরও ২১ প্রজাতির বন্যপ্রাণী

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬  

কক্সবাজারের উখিয়ায় অবস্থিত ইনানী জাতীয় উদ্যানে প্রথমবারের মতো ক্যামেরা ট্র্যাপে (ক্যামেরা ফাঁদ) বন্দি হয়েছে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা বিরল ও মহাবিপন্ন প্রাণী ‘মেঘলা চিতা’ (Clouded Leopard)। দীর্ঘ ১৩ মাসের এক বিস্তৃত গবেষণায় উদ্যানের তিনটি ক্যামেরায় এই চিতার পাঁচটি ছবি ধারণ করা সম্ভব হয়েছে। চিতার পাশাপাশি অনুসন্ধানে বনের সমৃদ্ধ বাস্তুতন্ত্রের প্রমাণ হিসেবে আরও ২১ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন গবেষকরা।

চলতি মাসে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞান সাময়িকী ‘গ্লোবাল ইকোলজি অ্যান্ড কনজারভেশন’-এ এই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণার তথ্য ও চিতার আবাসস্থল:

বন অধিদপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব গেটিনয়েন-এর যৌথ উদ্যোগে ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ইনানী জাতীয় উদ্যানের ৭,০৮৫ হেক্টর সংরক্ষিত বনে এই গবেষণা চালানো হয়।

ক্যামেরা স্থাপন: উদ্যানের ৩২টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোট ১৫টি ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হয়েছিল।

বাসযোগ্য এলাকা: বন অধিদপ্তরের ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টারের পরিচালক বিপুল কৃষ্ণ দাস জানান, ইনানীর প্রায় ৩,০০০ হেক্টর (উদ্যানের ৪৪ শতাংশ) এলাকা মেঘলা চিতার বিচরণের জন্য সম্পূর্ণ উপযোগী।

দৈহিক বৈশিষ্ট্য ও অবস্থা: গাছে জীবনযাপনে অভ্যস্ত মাঝারি আকারের এই শিকারি প্রাণীটির গোড়ালির সন্ধি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরতে পারে, ফলে এটি গাছের খাড়া কাণ্ড বেয়ে নিচে নামতে পারে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ জোট (IUCN) বাংলাদেশে মেঘলা চিতাকে ‘মহাবিপন্ন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

হুমকি ও বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ:

বিশিষ্ট বন্যপ্রাণী গবেষক ড. রেজা খান জানান, ইনানী বনে মেঘলা চিতার উপস্থিতি প্রমাণ করে যে বনটিতে এখনো প্রাকৃতিক ভারসাম্য টিকে আছে। তবে অবৈধ কাঠ আহরণ, রোহিঙ্গা শিবিরের সম্প্রসারণ, মানব বসতি স্থাপন ও পাহাড়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে প্রাণীদের নিরাপদ আবাস্থল ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হচ্ছে।

গবেষক দল বনের চত্বরে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করা, পাহাড়ে প্রাকৃতিকভাবে প্রবাহিত পানির ছড়া ও খালসমূহ রক্ষা করা এবং বনের চারপাশে বাফার জোন গড়ে তুলে স্থানীয় সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জরুরি তাগিদ দিয়েছেন।

(উৎস: গ্লোবাল ইকোলজি অ্যান্ড কনজারভেশন)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *